শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় দলিল তৈরি করে বঙ্গোপসাগরের জলসীমা বিক্রির ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনও এসব কাজে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছে। থানায় অভিযোগ করেও মিলেনা কোনো প্রতিকার। উল্টো জেলেদেরকেই পোহাতে হয় দুর্ভোগ।

জানা যায়, উত্তর পতেঙ্গার মুসলিমাবাদ কাটগড় জেলেপাড়ার বাসিন্দা অনিল জলদাশ। এক লাখ টাকার বিনিময়ে ১শ’ টাকার স্ট্যাম্পে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার জন্য ৮টি টংপার জাল এবং ১৬টি খুঁটির জলসীমা কিনে নিয়েছেন। একইভাবে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ৪০টি টংপার জালের দখলসহ কিনে নিয়েছেন একই এলাকার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইউচুপ। এক লাখ টাকায় সাগর কিনে মাছ ধরছেন সঞ্জয় জলদাশ। কাগজ-কলমে টংপার জাল হলেও তারা মূলত সাগরের এই জলসীমা দখল করে মাছ ধরছেন বছরের পর বছর।

শুধু এই তিন ব্যক্তিই নয়- এ ধরনের অন্তত ২৮ জনের কাছে এভাবে সাগরের জলসীমা বিক্রি করে দিয়েছেন মো. ইলিয়াছ সওদাগর নামের এক ব্যক্তি। সাগরের জলসীমা বিক্রি করে চলতি বছরই হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী নয়া শতাব্দীকে বলেন, সাগর কারো বাপের না। তারা বাপ-দাদার সম্পত্তির মতো দীর্ঘদিন ধরে এভাবে দলিল করে সাগর বিক্রি করে আসছিল। বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর গত ৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের ডেকে আনা হয়। এরপর ওইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত জেলেদের মাছ ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাগরে মাছ ধরার জন্য জালের খুঁটি বসাতে অনেক খচর হয়। ছেলেদের একটি পক্ষ এসব খুঁটি বসানোর জন্য অপর একটি পক্ষকে কাজ দেয়। তারা চুক্তি অনুযায়ী খুঁটি বসিয়ে দেয়। এসব ঘটনা নিয়ে এলাকায় অনেক গণ্ডগোলও হয়েছে। আবার খুঁটি বসাতে গিয়ে অনেকে জায়গা দখল করে নেয়। পরে ওই জায়গা আবার টাকার বিনিময়ে মৌখিকভাবে বিক্রি করার অভিযোগ তোলা হয়।

জানা গেছে, প্রভাবশালী পক্ষ থেকে দলিল করে সাগরের জলসীমা বিক্রির উদ্যোগ নেয়ায় মাত্র এক থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে যে কেউ হতে পারছে বঙ্গোপসাগরের একটি নির্দিষ্ট অংশের গর্বিত মালিক। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বেশ- কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যেই চলছে বঙ্গোপসাগর বিকিকিনি। অভিযোগ রয়েছে, বাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে কেউ কেউ বঙ্গোপসাগরে অবৈধ দখল ও উচ্ছেদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রভাবশালীদের দখল বেদখলের ফলে ন্যায্য হিস্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নিরীহ জেলেরা।

বঙ্গোপসাগরের জেলে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা মহেশখালী, কুতুবদিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, পতেঙ্গা, কাটলী এবং সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকাসহ বঙ্গোপসাগরের বিশাল একটি অংশ জোর করে দখলে রেখেছে হাজারের অধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা সমুদ্রে বিশেষ ধরনের চিহ্ন ‘ফার’ (ফান) নিয়ে দখল করে তা বেচাবিক্রি করছে। দখলকৃত নির্দিষ্ট এলাকা ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা দরে মৌখিক বা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জেলেদের কাছে বিক্রি করছে।

যেসব জেলে টাকার অভাবে দখলি স্বত্ব কিনতে পারে না, তারা তিন মাসের জন্য নির্দিষ্ট একটি এলাকা লিজ নিয়ে মাছ ধরে। আর যারা দখলি স্বত্ব কিনতে বা লিজ নিতে ব্যর্থ হয় তারা ভরা মৌসুমেও বেকার বসে থাকতে বাধ্য হন।সূত্র- নয়া শতাব্দী।

আরও পড়ুন