বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০২:০৯ অপরাহ্ন

দুই কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে ২০ বছর বয়সী মো. দেলোয়ার হোসেনের। পরিবারের কারো সঙ্গেই তার কিডনি মেলেনি। অবশ্য কিডনি মিললেও তা প্রতিস্থাপন করার সামর্থ্য তার পরিবারের নেই। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলে রেখে সপ্তাহে দুইদিন ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে তার। এরই মধ্যে সাত ব্যাগ রক্তও দিতে হয়েছে তাকে।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আব্বা-আম্মার বয়স হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে আমার চার বোনের বিয়ে দিয়েছে। এখন আর মাঠে কাজ করতে পারে না। কয়েক বছর থেকে আমি সংসারের কাজ করতাম। করোনার মধ্যে কলেজ বন্ধ থাকার কারণে অবসর সময়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতাম।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের পর বোনেরা স্বামীর বাড়িতে থাকে। আমার কিছু হয়ে গেলে আব্বা-আম্মাকে দেখার জন্য বাড়িতে আর কেউ থাকবে না। এটা চিন্তা করলেই মনটা বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কথাগুলো বলতে বলতেই চোখে পানি এসে যায় দেলোয়ারের।

জানা গেছে, হাড়ভাঙা খাটুনি করে চার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন সত্তোরোর্ধ্ব মো. আলাউদ্দীন। অভাবের সংসারে বুড়ো বয়সে একমাত্র ছেলে দেলোয়ার তার শেষ অবলম্বন। সদ্য কৈশোর পার করা সেই তরুণ দেলোয়ারের দুই কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে।

মাস দুয়েক আগে কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা দেলোয়ারের। এতে করে আর অনার্সে ভর্তি হওয়া হয়নি তার। তখন ক্রিয়েটিনিন লেভেল ১৪ তে ছিল। চিকিৎসা শুরুতে দেরি হলে ক্রিয়েটিনিন লেভেল ১৬ তে উঠে যায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন থেকে ডায়ালাইসিস দেওয়ার পর তা ১০-এ নেমে আসে।

কিন্তু চিকিৎসার খরচ না থাকার জন্য দেলোয়ারকে দফায় দফায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গত সপ্তাহে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর দেলোয়ারের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে মুখ দিয়ে রক্ত ওঠে। এরপর আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে দেলোয়ারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পুনরায় ভর্তি করা হয়। এবার তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়া শুরু হলেও টাকার অভাবে আবারো বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

দেলোয়ারকে নিয়ে কালের কণ্ঠ-তে সংবাদ প্রকাশের পর পাঠকদের অনেকেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের দেওয়া সহায়তায় দেলোয়ারকে আবারো রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসায় তার শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি হচ্ছে।

মাত্র ২০ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তিলনী গ্রামের হতদরিদ্র মো. আলাউদ্দীনের ছেলে। বৃদ্ধ আলাউদ্দীন জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য শেষ সম্বল ১০ কাঠা জমি বিক্রি করেছেন। সাত ব্যাগ রক্ত লেগেছে দেলোয়ারের। আড়াই মাস ধরে সবকিছু বাদ দিয়ে ছেলেকে নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। এখন ছেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলাউদ্দীন বলেন, চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য আল্লাহ দেয়নি। প্রতিদিন ওষুধ কেনা, বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা, ডায়ালাইসিস দেওয়া, রাজশাহীতে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক। সবমিলিয়ে আর কুলিয়ে উঠতে পারছি না।

দেলোয়ারের মা মোসা. আমবারা বিবি বিলাপ করতে করতে বলেন, আল্লাহ আমাদের মতো গরিব মানুষকে এতো বড় রোগ দিল! রোগটা ছেলের না হয়ে আমার হলেও ভালো হতো। ছেলেকে তো ভালো করতে পারছি না, ওর কিছু হলে আমরা কিভাবে বাঁচবো!

চিকিৎসক জানিয়েছেন, চিকিৎসায় দেলোয়ারের একটি কিডনির বেশ উন্নতি হচ্ছে। চিকিৎসা অব্যাহত রাখলে একপর্যায়ে গিয়ে নষ্ট কিডনি অপারেশন করে বাদ দিতে হবে। তখন অন্য কিডনিতে বেঁচে যেতে পারেন দেলোয়ার।

ছেলের প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন দেলোয়ারের বৃদ্ধ বাবা আলাউদ্দীন।

দেলোয়ারকে সহায়তা করতে চাইলে-
01784153048 (বিকাশ পার্সোনাল, নগদ)

আরও পড়ুন