রবিবার, ০৩ Jul ২০২২, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

বগুড়ার শেরপুরে সুদে টাকা লাগাতে নি’ষেধ করায় ঘুমন্ত স্বামীর গলা কেটে হ’ত্যার চেষ্টা চালিয়েছে স্ত্রী। এসময় তার গো’ঙানির শব্দে পরিবারের সদস্যরা এসে স্বামী তজমল হোসেনকে উদ্ধার করেন। তার শ্বাসনালী অক্ষ’ত থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তাকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর বিলনোথার গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, প্রায় পনের বছর আগে ঝাঁজর বিলনোথার গ্রামের হাবিবর রহমানের ছেলে তজমল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় লাকী আক্তারের। ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। সংসারে তাদের কোনো সন্তান নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন স্বামী তজমল হোসেন। সংসারের খরচ বাদে বাড়তি কিছু টাকা সঞ্চয়ও করেন তারা। কিন্তু সঞ্চয়ের এসব টাকা স্বামীকে না জানিয়ে গোপনে সুদে লাগান স্ত্রী লাকী আক্তার। এভাবে সামান্য সময়ের মধ্যেই লক্ষাধিক টাকার মালিক বনে যান তিনি।

একপর্যায়ে বিষয়টি স্বামী জানতে পেরে সুদে টাকা লাগাতে নিষেধ করেন। এনিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। এরই জেরে গতকাল সোমবার সকালে ধা’রালো বটি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা স্বামী তজমল হোসেনের গলা কেটে হ’ত্যার চেষ্টা চালায় স্ত্রী লাকী আক্তার। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তজমল হোসেন বলেন, ‘সংসারে তার উপার্জিত টাকার হিসাব ও সুদের ওপর টাকা লাগাতে বন্ধ করা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝ’গড়া হয়। এছাড়া তেমন কিছুই হয়নি। অথচ এই সামান্য বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রী আমাকে ঘুমের মধ্যে হ’ত্যার চেষ্টা চালিয়েছে! যা কল্পনাও করতে পারছি না। তাই থা’না-পু’লিশের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযুক্ত স্ত্রী লাকী আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ঘুমন্ত স্বামীর গলায় ছু’রি চালানোর মতো কোনো ঘটনা তিনি ঘটাননি। ওইদিন তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ-বিত’ণ্ডা ও ধ’স্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে শক্ত ধারালো কোনো কিছু দ্বারা তার স্বামীর গলা কেটে র’ক্ত বের হয় বলে দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে শেরপুর থা’নার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ বলেন, ‘খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। সেইসঙ্গে আহতের খোঁজখবর নেই। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে স্ত্রী দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ – কালের কন্ঠ

আরও পড়ুন