সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে পরীক্ষার হলে এক ছাত্রীকে যৌ’ন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক জাকিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি ছাত্রীর শ্লী’লতাহানি করেননি। পরীক্ষার সময় তার হাত বেঞ্চ থেকে বার বার বের হয়ে যাচ্ছিল তাই শুধু তার কনুই ধরে হাত ভিতরে রাখতে বলেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল কাদের জানান, সোমবার সকাল থেকে তাদের কাজ শুরু করেছেন। এখনই মন্তব্য করার মতো পরিস্থিতি হয়নি।

অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহজাহান আলী জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রীর কনুই ধরার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নি’র্যাতনের শিকার ছাত্রীর পরিবার, কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩৩তম বিসিএসের (সাধারণ শিক্ষা) জাকিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি জিয়া হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারায়। প্রায় দুই বছর আগে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর শনিবার বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অডিটোরিয়ামে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ইম্প্রুভ পরীক্ষা ছিল। বগুড়ার গাবতলীর এক ছাত্রীর ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের মনোবিজ্ঞান বিষয়ে ফলাফল খারাপ হওয়ায় তিনি সেদিন পরীক্ষা দিতে আসেন। সেখানে আরও ১১ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।

অডিটোরিয়ামে দায়িত্বে ছিলেন আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক জাকিরুল ইসলাম। দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক ডিউটির নামে বার বার ওই ছাত্রীর কাছে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেন।

পরীক্ষা শেষে ছাত্রী কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ফিরে বাবাকে অবহিত করেন। পরদিন ছাত্রীর বাবা কলেজে এসে অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহজাহান আলীর কাছে লিখিতভাবে নালিশ করেন।

ছাত্রীর বাবা বলেন, একজন শিক্ষকের আচরণ কখনই এমন হতে পারে না। আজ তার মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে এর বিচার না কাল অন্য মেয়ের সঙ্গে ঘটতে পারে। তাই তিনি তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রভাষক জাকিরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার হলে মেয়েটি বার বার পেছনের দিকে তাকাচ্ছিলেন। এ জন্য তাকে হাত ধরে সোজা করে দিয়েছেন।

তিনি শ্লী’লতাহানির অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, তার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।

এদিকে অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহজাহান আলী রোববার সন্ধ্যায় উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল কাদেরকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কলেজের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মাহাতাব হোসেন মণ্ডল এবং আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আবদুর রশিদ।

উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল কাদের জানান, রোববার অধ্যক্ষের কক্ষে অভিযুক্ত, অভিযোগকারী, ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন এবং শিক্ষক তার বক্তব্য রাখেন। সোমবার সকাল থেকে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওই পরীক্ষা কমিটির কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেকে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষে অধ্যক্ষের কাছে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ চলছে; তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহজাহান আলীর জানান, এমন ঘটনায় তিনি বিব্রত, লজ্জিত ও দুঃখিত। ছাত্রী তার শ্লী’লতাহানির অভিযোগ করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর কনুই ধরার কথা স্বীকারও করেছেন।

এরপরও তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সত্য পাওয়া গেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন