শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম এবং তার সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনত আল-হুসেইনের বিবাহ বিচ্ছেদের এক আলোচিত মামলার রায় হয়েছে। রায় অনুযায়ী, প্রিন্সেস হায়া সব মিলিয়ে ৫৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

জর্ডানের সাবেক রাজা হুসেইনের কন্যা ৪৭ বছরের প্রিন্সেস হায়াকে এককালীন ২৫ কোটি ১৫ লাখ পাউন্ড দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। তিনি হচ্ছেন শেখ মোহাম্মদের ষষ্ঠ এবং কনিষ্ঠতম স্ত্রী।

শেখ মোহাম্মদ শুধু দুবাইয়ের ধনাঢ্য শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি ঘোড়দৌড়ের জগতেও রেসের ঘোড়ার একজন প্রভাবশালী মালিক।

প্রিন্সেস হায়া ২০১৯ সালে তার দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। তিনি বলেন, শেখ মোহাম্মদ এর আগে তার দুই মেয়ে শেখ লতিফা ও শেখ শামসাকে অপহরণ করিয়েছেন। ফলে তিনি এখন তার নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন।

প্রিন্সেস হায়া তার এক ব্রিটিশ দেহরক্ষী সাবেক সেনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানার পর শেখ মোহাম্মদ ‘তুমি বেঁচে ছিলে, তুমি মরে গেছো’ নামে একটি কবিতা প্রকাশ করেন। এতে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অনুমান করা হয়। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পরও তিনি হুমকি পেয়েছেন।

আদালত রায় দিয়েছেন, দুবাইয়ের এই শাসকের ঘরে প্রিন্সেস হায়ার দুই সন্তানের প্রত্যেককে প্রতি বছর ৫৬ লাখ পাউন্ড দিতে হবে। এটি ২৯ কোটি পাউন্ডের একটি গ্যারান্টি দিয়ে সুরক্ষিত করা থাকবে।

এই দুই সন্তানের মধ্যে এক কন্যার বয়স ১৪ বছর এবং পুত্রের বয়স ৯ বছর।

প্রিন্সেস হায়ার যুক্তরাজ্যে দুটি দামি বাড়ি রয়েছে। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের খরচের কথাও রায়ে রয়েছে। এই বাড়িগুলোর একটি লন্ডনের কেনসিংটন প্রাসাদের পাশেই। অপরটি সারে কাউন্টির এগহ্যামে।

রায়ে প্রিন্সেসের নিরাপত্তার ব্যয়, ছুটি কাটানোর খরচ, একজন নার্স ও আয়ার বেতন ও আবাসনের খরচ, পরিবারের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং তার পালিত ঘোড়া ও অন্যান্য প্রাণীর খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের আইনি জগতের ইতিহাসে একে বলা হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা।

এ বছর হাইকোর্ট এক রুলিংয়ে বলেছে, শেখ মোহাম্মদ অবৈধভাবে প্রিন্সেস হায়া, তার দেহরক্ষী এবং আইনজীবী দলের ফোন হ্যাক করিয়েছিলেন। এজন্য ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করা হয়।

তবে শেখ মোহাম্মদের দাবি, তার কাছে কোনও হ্যাক করে পাওয়া সামগ্রী নেই এবং তার অনুমোদন নিয়ে কোনও নজরদারি চালানো হয়নি। প্রিন্সেসের কোনও ক্ষতি করার ইচ্ছেও তার নেই। সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন