শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৩ অপরাহ্ন

দীর্ঘ আট বছরের সংসার জীবনে অধরা রয়ে গিয়েছিল নানা শখ। স্বামী সময় না দেওয়া, সন্তান না হওয়ার আক্ষেপ এবং সর্বোপরি সংসার জীবনে অনীহা থেকেই শেষ পর্যন্ত রাজমিস্ত্রিদের হাত ধরেছিল ভারতের হাওড়ার নিশ্চিন্দার দুই জা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই কিছু তথ্য উঠে আসছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। খবর এই সময়ের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আট বছর আগে বিয়ে হলেও এখনও কোনো সন্তান নেই নিশ্চিন্দার সেই গৃহবধূর। তার জায়ের একটি পুত্র সন্তান থাকলেও স্বামী সময় দিতো না বলে আক্ষেপ। এর মধ্যেই ছয় মাস আগে বাড়িতে নির্মাণকাজে নিয়োগ করা হয় দুই রাজমিস্ত্রি শেখর রায় ও শুভজিৎ দাসকে।

দুই জায়ের সাথে তাদের প্রাথমিক আলাপ ক্রমে ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয়। গতানুগতিক সংসারের একঘেয়েমির মধ্যে দুই রাজমিস্ত্রির সাথে তাদের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়। মুর্শিদাবাদের সুতির বাসিন্দা দুই রাজমিস্ত্রি সহজেই মন জয় করে নেন দুই বধূর।

শেষ পর্যন্ত তাদের হাত ধরে ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে কর্মকার বাড়ির দুই জা। ছেলেকে নিয়ে শেখর ও শুভজিতের সঙ্গে মুম্বাই পাড়ি দেয় তারা। আসানসোল থেকে হাওড়ার নিশ্চিন্দা থানায় নিয়ে আসার পর পুলিশের কাছে এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদেও উঠে এসেছে বেশ কিছু তথ্য। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কর্মকার বাড়িতে কাজ শুরু করেছিল ওই দুই রাজমিস্ত্রি। মুদিখানার দোকানের কাজ সেরে রাতে ফিরতে দেরি হতো কর্মকার পরিবারের দুই ছেলের।

সেই সুযোগেই দুই বধূর সাথে পরিণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শেখর ও শুভজিতের। দুই বধূর কাছে নতুন মোবাইল নম্বর দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন তাদের স্বামীরা। স্ত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে ব্যস্ত থাকতো বলেও জানিয়েছেন স্বামীরা।

প্রসঙ্গত, শীতের পোশাক কিনতে যাওয়ার নাম করে গত ১৫ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন নিশ্চিন্দার কর্মকার বাড়ির দুই গৃহবধূ রিয়া ও অনন্যা কর্মকার। সাথে ছিল রিয়ার সন্তানও। তারপর তাদের আর হদিশ মেলেনি।

সন্তানসহ দুই গৃহবধূ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করে তাদের পরিবার। তারপর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ নন, ওই দুই গৃহবধূ পলাতক। মোবাইল ট্র্যাক করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন রাজমিস্ত্রিদের সাথে পালিয়ে গিয়েছিলেন তারা।

আরও পড়ুন