বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধ’র্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও প্রধান আসা’মি মো. আশিকুল ইসলাম ওরফে আশিক (২৯) কে মাদারীপুর থেকে গ্রে’ফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রে’ফতারের পর র‍্যাব জানায়, এই আশিক কক্সবাজারে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের গ্যাং লিডার। তার এই চক্রের সদস্য রয়েছে ৩০-৩৫ জন। যাদেরকে দিয়ে কক্সবাজারে সব ধরণের অপকর্ম করে আসছিলো আশিক। সম্প্রতি এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধ’র্ষণের ঘটনার পর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আশিককে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‍্যাব।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজারে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। এই ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে চার জন এজাহার নামীয় আসামি ও আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থা’নায় নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন আইনে মা’মলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাদের সংগে আট মাস বয়সের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। শিশুটির জন্মগতভাবে হার্টে ছিদ্র থাকায় তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। শিশুটির চিকিৎসার অর্থ সংকুলানের আশায় স্বামীসহ কক্সবাজারে অবস্থান করছিলো পরিবারটি। তারা বিত্তবান পর্যটকদের কাছে অর্থ সাহায্য চাইতো। এই সময় তিনি অপহরণ ও ধ’র্ষণের শিকার হয়েছেন।

র‍্যাবের মুখপাত্র আল মঈন বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মূলহোতা আশিক ২০১২ থেকে কক্সবাজার পর্যটক এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সংগে যুক্ত। ২০১৪-এ প্রথম সে অ’স্ত্রসহ গ্রে’ফতার হয়। সে ও তার গ্যাং সদস্যরা পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে চুরি, ছি’নতাই, অপহরণ, জিম্মি, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ডাকাতি ও মাদ’ক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ কার্যক্রমের সংগে জড়িত। সে পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন হোটেলে ম্যানেজারের সংগে যোগসাজসে ট্যুরিস্টদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতো।

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, গ্রে’ফতারকৃত ও তার সহযোগীরা ভিকটিম ও তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এতে ভিকটিম ও তার পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এজন্য লাবনী বীচ এলাকার রাস্তা থেকে ভিকটিমকে সিএনজি’তে করে তুলে নিয়ে যায় আশিক ও তার দলের সদস্যরা। এই সময় গ্রে’ফতারকৃত মো. আশিকুল ইসলাম ভিকটিমকে ধর্ষণ ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে আট’ক রেখে ভিকটিমের স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর ভিকটিমকে হোটেলে আটকে রেখে গ্রেফতারকৃত হোটেল থেকে বের হয়ে যায়। বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্থানীয় পর্যায়েও বিভিন্ন মিডিয়াতে জানাজানি হলে গ্রে’ফতারকৃত আত্মগোপনে চলে যায়। গ্রেফতার এড়াতে সে দাঁড়ি ও চোখের ভ্রু কেটে বেশভূষা পরিবর্তন করে ঘটনার দুই দিন পর কক্সবাজার থেকে একটি এসি বাস যোগে ঢাকায় আসে। পরে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে সে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রে’ফতার হয়।

গ্রে’ফতারকৃত পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন রকম জবরদখল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। সে পর্যটন এলাকার সুগন্ধা নামক স্থানে ফ্ল্যাট ও এ্যাপার্টমেন্ট জোরপূর্বক কম টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়ে ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়া সংগ্রহ করে মূল মালিকদের বঞ্চিত করে থাকে। গ্রেফতারকৃত বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অবৈধ দখল করে ও চাঁদা দাবি করে থাকে।

তার চক্রের সদস্যরা রাত্রিকালীন সময়ে সী-বীচে আগত ট্যুরিস্টদের হেনস্তা, মোবাইল ছিনতাই, ফাঁদে ফেলা ও নিয়মিত ইভটিজিং করতো। পাশাপাশি হোটেল-মোটেল জোনে বিভিন্ন ট্যুরিস্টদের সুযোগ বুঝে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করতো। তার নামে ইতিমধ্যে কক্সবাজার সদর থানায় অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ ১২টি মামলা চলমান রয়েছে। ইতিপূর্বে সে পাঁচবার পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয় এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছে বলে জানান র‍্যাবের মুখপাত্র।

এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার আল মঈন বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি, সে কৌশলে রাতের বেলা বিভিন্ন পর্যটককে ব্ল্যাক মেইল করতো। এভাবে সে কক্সবাজারের একজন পুলিশ সদস্যকেও ব্ল্যাকমেইল করেছিলো। মূলত তার থেকে কেউ রেহায় পায়নি।

আরও পড়ুন