বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

রাজধানীর কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির দুই দোকান থেকে গত ১৮ ডিসেম্বর ৭০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২২১ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

গত রবি ও সোমবার (২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা, বরিশাল ও ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ডিবি।

গ্রেফতাররা হলেন- ফরিদপুরের শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন (৪৮), বরিশালের শৈশব রায় ওরফে সুমন (৩৫) ও তাঁতিবাজারের স্বর্ণালংকারের ছোট ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সুর (৪৫)।

ডিবি জানায়, এই চুরির নেতৃত্ব দেয় শাহিন। তবে শাহিন ও শৈশব ঢাকায় আসে চুরির ঘটনার ১৫ দিন আগে। তাদের তাঁতীবাজারের কল্পনা বোর্ডিংয়ে থাকার ব্যবস্থা করে উত্তম। এছাড়া চুরির জন্য যা টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে তাও বহন করে উত্তম। তারা ওই বোর্ডিংয়ে থাকার সময় উত্তমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে রেকি করে।

অপেক্ষাকৃত দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনে হওয়ায় তারা কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি মার্কেটকে বেছে নেয় তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কেটের দুটি দোকানে চুরি করে ৭০০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি মার্কেটের মোহনা জুয়েলার্স ও বেস্ট অ্যান্ড ক্রিয়েশন জুয়েল অ্যাভিনিউ জুয়েলার্স নামক দুটি সোনার দোকান থেকে প্রায় ৭০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়। এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। পরে এ মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোরদের গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম হই। জানতে পারি, শৈশব ও শাহিন দুজনই নিজ এলাকায় চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। ঢাকায় এসে কিছু করতে মনে চাইল তাদের। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা পূর্বপরিচিত উত্তম রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তিনজন মিলে চুরির পরিকল্পনা করে।

ডিবি প্রধান বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উত্তম তাঁতীবাজারের কল্পনা বোর্ডিংয়ে শাহিন ও শৈশবকে ঘটনার ১৫ দিন আগে থাকার ব্যবস্থা করে। পরে তারা তিনজন মিলে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে চুরির জন্য রেকি করা শুরু করে। অন্য যেকোনো মার্কেটের তুলনায় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলক কম বলে তাদের মনে হয়। তারা সেখানে চুরির পরিকল্পনা করে।

তিনি বলেন, ঘটনার চার দিন আগে সেখানে চুরির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে তারা ঘটনার দিন মার্কেটের পার্শ্ববর্তী একটি নির্মাণাধীন ভবন দিয়ে বেয়ে মার্কেটের একটি বাথরুমে প্রবেশ করে। বাথরুম থেকে তারা মার্কেটের ভেতর প্রবেশ করে দুই দোকানে চুরি করে ৭০০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি, তারা সোনার পাশাপাশি এক দোকান থেকে কিছু হীরাও চুরি করে। কিন্তু চুরি করে যাওয়ার সময় হীরা ও সোনার একটি ব্যাগ রাস্তায় পড়ে যায়। এর মধ্যে রাস্তা থেকে ২২ ভরি সোনা পাওয়া গেছে, যা রমনা থানায় জমা রয়েছে। রাস্তায় পড়ে যাওয়া সোনা ও হীরা যদি কেউ যদি পেয়ে থাকলে এসব জিনিস দ্রুত স্থানীয় থানায় জমা দিয়ে দেন। যদি কেউ পেয়েও জমা না করেন, আর তদন্তে যদি তাদের নাম-পরিচয় বেরিয়ে এলে চোরাই মাল রাখার দায়ে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা তদন্তকালে আরো দেখেছি, কল্পনা বোর্ডিংয়ে উঠার সময় তারা নাম এন্ট্রি করেনি। কিন্তু ডিএমপি থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে হোটেলে নাম এন্ট্রি করার। কল্পনা বোর্ডিংয়ে নাম এন্ট্রি করা থাকলে আরও সহজে তাদের ধরতে পারতাম। আমরা কল্পনা বোর্ডিংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে আমরা আরও একটি বিষয় বলে রাখতে চাই, কেউ যদি মনে করে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে চুরি করে সহজে চলে যেতে পারবেন বা পার পেয়ে যাবে সেটি হবে না। আমরা সব সময় এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখি।

চুরি হওয়া স্বর্ণগুলো চোররা কী নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ফেলেছিল নাকি দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, তারা কিছু স্বর্ণ দোকানে রেখেছিল আবার কিছু স্বর্ণ তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে। তবে তারা বলেছে কিছু স্বর্ণ রাস্তায় পড়ে গেছে। তাদের কাছ থেকে আমরা ২২১ ভরি সোনা জব্দ করেছি। রিমান্ডে নিলে বাকি সোনা কোথায় আছে তা জিজ্ঞাসাবাদ করে উদ্ধারের চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, যেসব দোকানিরা চোরাই স্বর্ণ কেনেন তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব, যদি তদন্তে করো নাম আসে। এছাড়া বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সবাইকে বলব, কেউ যেন চোরাই মাল না কেনেন। আর যদি কেউ কেনেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনেক দোকানি চোরাই সোনা কিনে গলিয়ে অন্য সোনা বানিয়ে ফেলেন। তদন্তে তাদের নাম পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এজাহারে বলা হয়েছে ৭০০ ভরি, আপনারা জব্দ করেছেন ২২১ ভরি বাকি সোনা কোথায়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা শুনেছি যে কিছু স্বর্ণ রাস্তায় পড়ে গেছে। তবে এই বিষয়গুলো আমরা জানার চেষ্টা করছি। কোনো দোকানও যদি আরও স্বর্ণ বিক্রি করে থাকে তাহলে সেটা আমরা বের করার চেষ্টা করব।

আরও পড়ুন