সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

স্ত্রীর সঙ্গে আপ’ত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার পরে বন্ধুকে কুপিয় হ’ত্যা করেন মো. ইমাম হাসান ওরফে হৃদয় (২০) নামের এক যুবক। এ ঘটনায় ইমামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাব-৮। আসামি হৃদয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থা’নার ময়নামতি এলাকার মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানার উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন বস্তিতে বসবাস করতেন।

র‌্যাব জানায়, তুরাগ থানাধীন বৃন্দাবন বস্তিতে নি’হত রাসেল (২২) ও গ্রেফতার হওয়া হৃদয় বসবাস করতেন। তারা একে অপরের ছেলেবেলার বন্ধু হওয়ায় পরস্পরের বাসায় যাতায়াত ছিল। এরই সূত্র ধরে হৃদয়ের স্ত্রী নুর আয়েতি আখিনুরের সঙ্গে রাসেলের প’রকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হৃদয় জানান, গত ৪ জানুয়ারি আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার নিজের বাসায় গিয়ে ঘরের দরজা বাহির বন্ধ দেখতে পান তিনি। এরপর স্ত্রীকে ডাকাডাকি করলে ঘরের দরজা খুলেই হৃদয় তার স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধু রাসেলকে আপ’ত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। স্ত্রীকে এ অবস্থায় দেখে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন হৃদয়। রাসেলকে জাপটে ধরে কিলঘুষি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে হাতের কাছে একটি ছু’রি পেয়ে রাসেলের পিঠে এলোপাথাড়ি কুপি’য়ে জখম করেন। হৃদয়ের স্ত্রী নুর আয়েতি আখিনুর বাধা দিতে এলে তিনিও জখম হন।

পরে হৃদয় ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং তার শ্বশুরকে জানিয়ে দেন নুর আয়েতি আখিনুর ও রাসেল জখম হয়ে ঘরের মধ্যে পরে আছে। খবর পেয়ে স্বজনরা আখিনুর ও রাসেলকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাসেলের বাবা বাদী হয়ে পরের দিন ৫ জানুয়ারি হৃদয়কে অভিযুক্ত করে একটি মা’মলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর হৃদয় ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে কুয়াকাটায় চলে যান। এরপর তার খালাতো ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি বরগুনার আমতলী থা’নাধীন আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীপুর এলাকায় আত্মগোপন করেন। র‌্যাব আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে হৃদয়ের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রে’ফতার করে।

আরও পড়ুন