শনিবার, ১৪ মে ২০২২, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করেছেন। দুদিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছে তার বস্তাবন্দি ম’রদেহ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। জানা যায়, এই অভিনেত্রী পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর হাতে নৃশং’সভাবে খু’ন হন। তার করুণ মৃ’ত্যু চলচ্চিত্রপাড়ায় নামিয়েছে শোক, তৈরি করেছে চাঞ্চল্য।

এদিকে শিমুর মৃ’ত্যু বেশ মোটা দাগে প্রভাবিত করেছে চলমান শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে। গত ২০১৭ সালে মিশা-জায়েদ প্যানেল কমিটি ক্ষমতায় আসার পর শিমুর ভোটাধিকার কেড়ে নেয়। তার সদস্যপদ বাতিল করে দিয়ে সহযোগী সদস্য করা হয়৷ সদস্য হিসেবে সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন তিনি।

আর সেই ক্ষোভে নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেতে আন্দোলন করেছিলেন শিমু। নানা সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। এর ফলে সমিতি থেকে ভোটাধিকার হারানো আলোচিত ১৮৪ জন শিল্পীর একজন হিসেবেই তাকে চেনে সবাই।

গতকাল ১৯ জানুয়ারি এফডিসিতে দেখা গেল শিমুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ব্যানার তৈরি করেছে মিশা-জায়েদ প্যানেল। যার একটি দেয়া হয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নামে, অন্য একটি আছে মিশা-জায়েদ প্যানেলের নামে। ব্যানারগুলোতে শিমুর পরিচয় দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সদস্য চিত্রনায়িকা শিমু’। এই পরিচয় দৃষ্টি কেড়েছে সবার। জন্ম দিয়েছে আলোচনারও।

এ বিষয়টি নিয়ে অনেকে বলছেন, যে শিমুকে মিশা-জায়েদ নেতৃত্ব সদস্য থেকে সহযোগী সদস্য বানিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিলো সেই তারাই মৃ’ত্যুর পর তাকে সদস্য বানিয়ে দিলো। শিমুর মৃত্যুর আবেগকে কাজে লাগিয়ে শিল্পীদের সমর্থন নিজেদের দিকে টানতেই এই কৌশল অবলম্বন করছে তারা।

এদিকে ভোটের রাজনীতি গেল চার বছর ধরে শিল্পী সমিতিতে অবহেলিত শিমুকে যেন গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তাকে নিয়ে কথা বলে আবেগ ছড়াতে পারলেই যেন লাভ। আর সেই লাভই ঘরে তোলার চেষ্টা চলছে এখন।

আরও পড়ুন