মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০২:২৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার কাজী হায়াতের হাত ধরে ১৯৯৮ সালে বরেণ্য চলচ্চিত্রে নাম লেখান রাইমা ইসলাম শিমু গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকা থেকে এই অভিনেত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিমু হ’ত্যাকাণ্ডের খবর শুনে আঁতকে ওঠেন কাজী হায়াৎ।

তিনি সাংবাদিক ভাইদের বলেন, ‘শান্ত মেয়েটাকে কারা এভাবে মারল! আহ্‌হা…। মেয়েটার তো একটা মেয়ে আর একটা ছেলেও ছিল। কী হবে ওদের! এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তথ্য বের হয়ে আসা উচিত। যে বা যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এমন শাস্তি, যাতে আর কোনো দিন কেউ যেন এমন অপরাধের চিন্তাই করতে না পারে।’

কাজী হায়াৎ আরও বলেন, ‘শিমু আমার ছবিতে কাজ করেছিল। মেয়েটা আমার চোখে ভীষণ ভালো ছিল। মান্না ওকে আদর করত, আমিও ওকে ভালো জানতাম। কিন্তু আজ বস্তাবন্দী লাশের কথা শুনে তো বিস্মিত হলাম। খুবই দুঃখজনক। ভীষণ দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কি একটু অবনতি ঘটল? নাকি এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।’

প্রয়াত শিমুকে নিয়ে এই গুণী নির্মাতার ভাষ্য, ‘শিমু একজন শিল্পী। আফটার অল দারুণভাবেই শিল্পীমনা ছিল। তীব্র ইচ্ছা ছিল চলচ্চিত্র এবং শিল্প অঙ্গনে কিছু করার। এই ভাবে বস্তাবন্দী লাশ হওয়া খুব দুঃখজনক। ও (শিমু) যে এভাবে চলে গেল, এটা খুবই দুঃখজনক।’

২৪ বছর আগে শিমুর খোঁজ কীভাবে পেলেন তা জানিয়ে কাজী হায়াৎ বলেন, “ওর ভাই খোকন এফডিসিতে ঘোরাঘুরি করত। তার সঙ্গে মান্নার ভাইয়ের যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রে মান্নার সঙ্গেও পরিচয়। একদিন শিমুকে এনে মান্না বলল- হায়াৎ ভাই, দেখেন তো এই মেয়েটা চলে কিনা? চলচ্চিত্রে অভিনয় করার তাঁর খুব আগ্রহ। আমিও বললাম, ওকে। আমার প্রথম সিনেমা ‘বর্তমান’-এ প্রথম কাজ করল। এরপর ‘মিনিস্টার’–এ অভিনয় করে। দুইটা সিনেমায় মান্নার অনুরোধে শিমুকে নেওয়া।”

শিমুকে ‘বিষ্ণুপদ’ নামে ডাকতেন কাজী হায়াৎ। কারণ এই পরিচালকের গ্রামে বিষ্ণুপদ নামে একজন হিন্দু ভদ্রলোক ছিলেন। তাঁর চেহারার সঙ্গে শিমুর চেহারায় মিল ছিল। শিমু ছিল ওই ভদ্রলোকের মতো নম্র আর ভদ্র। খুব একটা কথা বলত না। চুপচাপ শুনত। শান্ত মেজাজের।

প্রসঙ্গত, শিমুকে হত্যা করার অভিযোগে তার স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদকে গ্রেপ্তার করেছে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ। তাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে মা’মলাটি করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন শিমুর স্বামী নোবেল।

অভিনেত্রী শিমু প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি একটি টিভি চ্যানেলের মার্কিটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শিমু চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী সমিতির সদস্যপদ হারানো ১৮৪ জনের মধ্যে একজন। তিনি ভোটাধিকার ফিরে পেতে আন্দোলন করছিলেন।

আরও পড়ুন