বৃহস্পতিবার, ৩০ Jun ২০২২, ১০:১৮ অপরাহ্ন

মধ্যরাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেপ’রোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একটি রিকশায় ধাক্কা দেওয়ার পর ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় মডেল-অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া ও তার বন্ধু প্রাঙ্গণ দত্ত অর্ঘ্যকে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গাড়িসহ আটক হওয়ার পর রাত ৩টার দিকে ছাড়া পান তারা।

পুলিশের দাবি, চালক প্রাঙ্গণ দত্ত অর্ঘ্য ‘ম’দ্যপ’ ছিলেন। আর ওই গাড়িতে থাকা অভিনয়শিল্পী স্পর্শিয়াও ওই সময়ে পুলিশের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। যদিও স্পর্শিয়ার দাবি, তারা কেউ ম’দ্যপ ছিলেন না। গাড়িও দ্রুত গতিতে চলছিল না। গাড়ি থামানোর পর ‘দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং পরে মুচলেকা রেখে গভীর রাতে ছেড়ে দেয়।

কালো রঙের লেক্সাস গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী প্রাঙ্গণ। চালকের পাশের আসনে বসে ছিলেন স্পর্শিয়া। আর টহল ডিউটিতে ছিলেন ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক মাহাবুবুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বলেন, সাতমসজিদ রোডে ইউনিমার্টের সামনে একটি রিকশা বা সিএনজি চলে আসায় দ্রুতগামী একটি গাড়ি সজোরে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়। পরে তিনি সামনে এগিয়ে গিয়ে চালককে জিজ্ঞাসা করেন ‘ওভারস্পিডে গাড়ি চালাচ্ছেন কেন?’।

গাড়িটির চালক তখন নেমে এসে থামানোর জন্য খারাপ ব্যবহার করেন। বলতে থাকেন, ‘হু আর ইউ’। চালকের সঙ্গে একজন তরুণীও ছিলেন। তারা দুজনই পুলিশের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তারা গাড়িসহ তাদের থানায় নিতে বলেন। পরে আমরা জানতে পারি তিনি অভিনেত্রী স্পর্শিয়া।

তিনি আরো বলেন, ওরা ড্রাংক ছিলেন। চালক নিজেই বলেন যে তিনি অল্প পরিমাণে মদ পান করেছেন। তিনি এ কথাও বলেন যে তার ম’দ পানের পারমিট রয়েছে। তবে সেই পারমিট দেখাতে পারেননি। তিনি খুবই বাজে ব্যবহার করছিলেন। পরে ওসি স্যার বললেন থানায় নিতে।

আমরা থানায় নিয়ে গেলাম। পরে সেখানে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আর এ ধরণের আচরণ করবেন না বলে মুচলেকায় উল্লেখ করেন বলে এসআই মাহবুব জানান। পুরো ঘটনাটা মিটতে রাত প্রায় সাড়ে তিনটা বেড়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে প্রাঙ্গনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গাড়িতে স্পর্শিয়া ছিলেন। তারা পুলিশের সাথে অসদাচরণ করেন। এ কারণে তাদের থানায় নেয়া হয়েছিল। রাতেই মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন