সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

জ্বর-ঠান্ডা, বমিভাবসহ করোনার বেশ কিছু লক্ষণ এখন জানা আছে সবার। জ্বর হলেই এখন মানুষের প্রথম সন্দেহ চলে যায় করোনার দিকে। তবে বিশেষ ধরনের চর্মরোগের লক্ষণও দেখা দিচ্ছে করোনা হলে, এমনটি দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজি’-র একটি রিপোর্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই রিপোর্টে দেখা গেছে ৮.৮ শতাংশ কোভিড রোগীর ত্বকে কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। মূলত পাঁচ ধরনের র‍্যাশের কথা বলা হয়েছে সেখানে।

কোভিড ডিজিটস: এটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক করোনা রোগীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে। পায়ের আঙুল ফুলে লাল বা বেগুনির মতো রং ধারণ করছে এই ধরনের চর্মরোগে। সাধারণত এমন সমস্যা খুব ঠান্ডার সময়ে হয়ে থাকে। তবে করোনায় আক্রান্ত হলে তা দেখা দিতে পারে যে কোনো সময়ে। ফোলা আঙুলগুলোতে হালকা চুলকানির সমস্যাও হয়। হাঁটাচলা করতেও কষ্ট হয় এমন ক্ষেত্রে।

এগজিমা: প্রদাহ সৃষ্টি হওয়ার কারণে খুব শুষ্ক হয়ে যায় ত্বক, ফলে র‍্যাশ বের হয়। চামড়া ফেটে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। গলা, বুক এবং হাতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই সমস্যা। এগজিমা যে সব সময়ে করোনা সংক্রমণের সময়েই দেখা দিচ্ছে, তা নয়। বহু রোগী ‘করোনা নেগেটিভ’ হয়ে যাওয়ার পরও এই সমস্যায় ভুগছেন।

হাইভ্‌স: এই ধরনের সমস্যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হঠাৎ সারা গা র‍্যাশে ভরে যায়। এ ক্ষেত্রে হাত, পায়ে লালচে চাকা চাকাভাব দেখা দেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সমস্যাটি সংক্রমণের বেশ শুরুর দিকে দেখা দিতে পারে এবং তা থাকে বেশ অনেক দিন।

মুখে র‍্যাশ: হঠাৎ ঠোঁট খুব শুষ্ক হয়ে যায়। ফেটে যেতে শুরু করে। ঠোঁটের চারপাশে লালচে র‍্যাশ দেখা দেয়। স্পেনের একটি সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের সমস্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা দিতে শুরু করে করোনার বাকি সব উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগে থেকেই।

পিটুরাইয়াসাস রোসিয়া: পেট, বুক বা পিঠে গোল করে চাকা চাকা র‍্যাশ বেরোতে শুরু করে। হাত এবং থাইয়েও হতে পারে এই র‍্যাশ। সাধারণত এ র‍্যাশ অনেকটা এলাকায় ছড়িয়ে যায়। সংক্রমিত হওয়ার ৪-৫ দিনের মধ্যে এগুলো দেখা দেয়। থাকে বেশ অনেক দিন পর্যন্ত।

এই ধরনের চর্মরোগ সম্পর্কে তাই আগে থেকেই সচেতন হতে হবে। প্রথম থেকেই সচেতন হ করোনায় গুরুতর অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন