শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের আইসোলেশনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, আইসোলেশনের সময়সীমা ১০ দিনের পরিবর্তে ৫ থেকে ৭ দিন করা হবে। শিগগির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন আইসোলেশন নীতির এ ঘোষণা দেবে। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় আইসোলেশন ১৪ দিন ছিল।

‘কোভিড-১৯-এর নতুন ধরন অমিক্রনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি’ শিরোনামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারের পরিচালক (মেডিকেল) আরিফ মাহমুদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, কোভিড আক্রান্তদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ দিনের আইসোলেশনের নতুন নীতিমালা করা হয়েছে।

কারণ, এ সময়ে চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের জনবলও ব্যাপক হারে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁদের দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকতে হচ্ছে। এতে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারী হাসপাতালে র‍্যাপিড আরটি পিসিআরের অনুমতি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা যেন যত্রতত্র জায়গা থেকে ওষুধ কিনে না খান, সে জন্য একটি চিকিৎসা নীতিমালা তৈরির অনুরোধ জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অন্য প্রতিনিধিরা জানান, শয্যা, আইসিইউ, অক্সিজেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স নিয়ে অমিক্রন মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন । সংক্রমণ কমে যাওয়ায় শয্যা সংখ্যা কমানো হয়েছিল, প্রয়োজনে তা আবারও বাড়ানো হবে। এই মুহূর্তে সংক্রমণ বেশি হলেও রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছেন। অনেকে টেলি মেডিসিন সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯-এর অমিক্রন ধরন চার গুণ বেশি সংক্রমণ ছড়ায়। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যু কম। গতকাল সোমবার সংক্রমণের হার ছিল ৩২ শতাংশ। মৃত্যুহার ১ দশমিক ৬ শতাংশ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কম। এই সময়ে টেলিমেডিসিন সেবায় বেশি জোর দেওয়া দরকার। হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবাকে শক্তিশালী করা দরকার। সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

শুরুর চেয়ে করোনা মোকাবিলায় দেশ এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন লাইন আছে। লিকুইড অক্সিজেন আছে। ৮৫০টি পরীক্ষাকেন্দ্র আছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান বলেন, এখন হাসপাতালগুলো যন্ত্রপাতিতে সুসজ্জিত। জনবলও প্রশিক্ষিত ও আত্মবিশ্বাসী। এবারও সম্মিলিত উদ্যোগে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপিএমসিএর সভাপতি এম এ মুবিন খান। সভায় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) নাজমুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আহমেদুল কবির।

এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিপিএমসিএর সাধারণ সম্পাদক সাংসদ আনোয়ার হোসেন খান, সংগঠনের সহসভাপতি মাঈনুল আহসান, সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান,

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম, সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আফজাল মিয়া, রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান নীলু আহসান, খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্ণধার গাজী মিজানুর রহমান এবং চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।

আরও পড়ুন