বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ঠাণ্ডায় জমে সাতজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতি বছরই এমন বিপদজনক ভাবে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যায় অনেক মানুষ। নৌকাযোগে লিবিয়া থেকে ইতালির ল্যাম্পাডুসা দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। প্রতিবদেন বিবিসি বাংলা, বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এক বিবৃতিতে ইতালির আগ্রিজেন্তোর প্রসিকিউটর লুইগি প্যাত্রোনাজিও বলেন, ঠাণ্ডায় শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসায় ওই বাংলাদেশিরা মারা যান। ল্যাম্পাডুসার মেয়র সালভারোতে মারতেল্লো বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই নৌকায় ২৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, মিশর, মালি ও সুদানের নাগরিক।

যে নৌকায় করে অভিবাসন-প্রত্যাশীরা লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, রয়টার্স জানাচ্ছে, ইতালির কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দেশটির লামপিওনি দ্বীপের উপকূল থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরে সেটি ভাসতে দেখেন এবং ওই নৌকাটির সন্ধান পান। এরপর কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সেখানে উদ্ধার অভিযান চালায়।

সালভারোতে মারতেল্লো প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়,, উদ্ধারকৃতদের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০০ জনের মতো ব্যক্তিকে একটি জাহাজে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে। অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে ভূমধ্যসাগরে নজরদারি বাড়ানো হলেও অভিবাসন প্রত্যাশীদের যাওয়া অব্যাহত রয়েছে

রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর মোহাম্মদ এরফানুল হক জানিয়েছেন ইতালির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাসকে কিছু জানানো হয়নি। তবে সিসিলিতে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল যারা রয়েছেন তাদের বিষয়টি সম্পর্কে খবর নেবার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রতি বছর বহু অবৈধ অভিবাসন-প্রত্যাশী ইউরোপ প্রবেশের জন্য প্রথমে ইতালি ও গ্রিসের উদ্দেশ্য রওনা দেন। এই দুটি দেশকে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন-প্রত্যাশীদের পাচারের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত কয়েক বছরে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

দু’হাজারএক সালে ৬৫ হাজারের মতো অভিবাসন-প্রত্যাশী উপকূল থেকে ইতালি প্রবেশ করেছেন যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শুধু এমাসেই ঠাণ্ডা আবহাওয়া উপেক্ষা করে ১৭শ মানুষ ইতালিতে প্রবেশ করেছেন।

আরও পড়ুন