সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৬:০২ অপরাহ্ন

রাত ১২টা ৪০। গৃহবধূর ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। সালাম দিয়ে শুরু করেন ওপাশ থেকে। ভরাট গলায় পুরুষ কণ্ঠে বলেন ‘বাবাজি ঘুম থেকে জাগ্রত হও। আমি তোমার মঙ্গল কামনায় এসেছি। তোমার আশপাশেই আছি। তুমি কি আমার কথায় রাগ করছো? রাগ করলে ফোন রেখে দেই।’ এভাবেই শুরু হয় জিনের বাদশার ফাঁদ। সেই ফাঁদে পড়ে গৃহবধূ দিয়েছেন এক লাখ ১০ হাজার টাকা।

ওই রাতে ফোনে ওপাশ থেকে বলা হয়, ফজরের নামাজ পড়ার জন্য প্রস্তুত হও। তুমি বিবি ফাতেমার মতো সতী নারী। আমার কথা শুনে কাজ করবে। কথা না মানলে একমাত্র ছেলের নাকমুখ দিয়ে রক্ত ঝড়বে। নির্দিষ্ট স্থানে তার জন্য একটি স্বর্ণের পুতুল রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই স্থানে একটি পুতুল পেয়ে যান গৃহবধূ। গত ১৩ দিনেও ওই পিতলের পুতুল স্বর্ণে রূপান্তরিত হয়নি। পরে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। প্রতারণার শিকার গৃহবধূ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

প্রতারণার শিকার ওই গৃহবধূ জানান, ঈদের আগের দিন শনিবার গভীর রাতে (০১৮৪৮১৫২৮৩৭) নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। এসব ঘটনা কাউকে না বলার জন্য শপথ করানো হয় তাকে। একই সঙ্গে এ ঘটনা কাউকে বললে তার সন্তানের ক্ষতি হবে বলেও জানান।

তিনি পাহাড়ের উপর থেকে ফোন করেছেন। কুদরতিভাবে তিনি বেশ কয়েকটি স্বর্ণের পুতুল পেয়েছেন। যার একটার মালিক আমি। এ অবস্থায় ওই পুতুল পাইতে হলে তার কিছু কথা শুনতে হবে। পরদিন দুপুরে উপজেলা সদরের একটি মসজিদের কাছে যেতে বলেন। সেখানে একটি চিপসের প্যাকেটের ভেতর রাখা পুতুলটি নিয়ে সোজা বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর পর বেশ কয়েকবার ফোন করে বিভিন্ন কৌশলে ৪ হাজার মক্কা-মদিনার মেহমানকে খাওয়ানোর কথা বলে এক লাখ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। আর এই টাকা পাওয়া মাত্রই পিতলের পুতুলটি হয়ে যাবে এক কেজি পরিমাপের স্বর্ণের পুতুলে পরিণত হয়ে যাবে বলে দাবি করেন।

দুটি গরু বিক্রি ও ঋণ করে এক লাখ ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান গৃহবধূ। এরপর থেকে সেই নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু ১৩ দিনেও পুতুলের কোনো পরিবর্তন হয় না। এর মধ্যে সোমবার গৃহবধূর তার ছেলের নম্বরে সুজন নামে একজন (০১৮৯০২৭৪৫৮৯) ফোন করে জানায়, ওই টাকা ফেরত পাইতে হইলে তাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।

আরও পড়ুন