শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

হাতি বশে এনে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় প্রশিক্ষণের নামে করা হচ্ছে অমানবিক নির্মম নির্যাতন। নির্মম নির্যাতন করে হাতির শাবককে বশে এনে পাহাড় থেকে গাছ টানা, সার্কাস, খেলা ও শারীরিক কসরত দেখানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে পুঁতে রাখা গাছের চারটি খন্ড। সামনের দুই পা সামনের গাছের সাথে এবং পিছনের দুই পা পিছনের গাছের সাথে বাঁধা হয়। এর আগে গলায় রশি দিয়ে গাছের সাথে বাঁধা হয়। এ সময় গগনবিদারী চিৎিকার দিতে থাকে ৪ বছর বয়সী এই হাতি শাবকটি। তখন সমস্ত বাঁধন ছিন্ন করে মুক্ত হবার প্রানপণ চেষ্টা করে। হাতির এমন নির্মম নির্যাতন দেখে অনেকের মন কাঁদলেও কাঁদেনি নির্যাতনকারীদের মন। হাতির শাবক কে এমন নির্মম নির্যাতন করার ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ থেকে হাতির বাচ্চা ‘টাইগার’ নির্মমতার শিকার হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্যাতন বন্ধ হলেও তাঁরা চলে গেলে আবার শুরু হয়। তবে বন বিভাগের কাছ থেকে জানা গেছে , হাতির বর্তমান দায়িত্বে থাকা জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুম রেজাকে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের নির্যাতন ছাড়া স্বাভাবিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে।

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন সোমবার থেকে একটি হাতিশাবককে পোষ মানানো (স্থানীয় ভাষায় হাদানি) চলছে। উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের কুচাইতল এলাকায় হাতির বাচ্চাকে বেঁধে পোষ মানানোর নামে শারী’রিক নি’র্যাতন করা হয়। পোষ না মানা পর্যন্ত কমপক্ষে তিন মাস এভাবেই চার পা দড়ি দিয়ে বেঁধে খুঁটিতে টানা দিয়ে রাখা হবে। সাত সদস্যের একটি দল এ প্রশিক্ষণ কাজ শুরু করে। প্রশিক্ষণের সময় শারীরিক কসরত, গাছ টানানোসহ মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়তে দেওয়া হবে নানান তালিম। তবে এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতি সহজ নয়। হাতি শাবকের জন্য কঠিন ও কষ্টদায়ক।

প্রশিক্ষক আকবর আলী বলেন, সম্পূর্ন কাজ সম্পন্ন করতে ২/৩ লাখ টাকা খরচ হবে হাতি প্রশিক্ষণের দৃশ্যটি দেখতে মানুষের জন্য আনন্দ দায়ক হলেও প্রক্রিয়াটি বাচ্চার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তবুও তাকে পোষ মানানোর এ কাজটি না করলে হাতিটি জংলি হাতির মত আচরণ করবে। মানুষের জান-মালের ক্ষতি করবে।

তিনি বলেন- তিন মাস পরেও প্রশিক্ষণের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। তা সঠিক ভাবে সম্পন্ন হবার পর এই হাতিকে দিয়ে যে কোন কাজ করানো যাবে।

তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাচ্চাকে বিভিন্ন সংকেত বুঝিয়ে দেয়া হয়, শিখিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন কাজের কৌশল। প্রশিক্ষণ শেষ হলেই হাতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ। প্রশিক্ষিত হাতি দিয়েই গাছ টানা, পড়ে যাওয়া গাড়ি তোলা, অতিথিকে অভিবাদন জানানো, সার্কাসে খেলা দেখানোসহ বিভিন্ন কাজ করানো হয়।

পরিবেশ কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, মানুষের প্রয়োজনে হাতি ব্যাবহার আধুনিক যোগে মাননসই নয়। হাতি দিয়ে যে কাজগুলো করা হয় তার জন্য এখন অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। বিকল্প থাকার পরেও একটি প্রাণীকে এভাবে নির্যাতন করে পোষ মানানো তা যেকোন বিবেকবান মানুষকে ব্যাথিত করে। সরকারের উচিত হাতি পালনের লাইসেন্স বাতিল করা। সব হাতিকে বনে ফিরিয়ে নেওয়া।

জুড়ী বন বিভাগের ফরেস্টার মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘হাতিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। আমাদের কিছু করার নেই। তবে হাতিশাবকটির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ দুঃখজনক।’ এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘হাতির মালিকরা লাইসেন্স নিয়েই হাতি পোষেন। তারা হাতি বশে আনার জন্য প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। তবে নির্যাতনের বিষয়টি দুঃখজনক।

আরও পড়ুন