রবিবার, ০৩ Jul ২০২২, ০২:২৮ অপরাহ্ন

জীবনে বড় কিছু হতে হলে প্রথমেই তাকে তার কর্মপন্থা ঠিক করে নিতে হবে। জীবনের কার্যক্রম মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই নির্ভরশীল। মানুষ যদি তার কর্মপন্থা ঠিক করে থাকে তাহলে সে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সম্ভব। কারণ কোন কিছু করার ইচ্ছা থাকলে তা বাস্তবায়ন করার উপায় সহজে বের হয়ে আসে।

ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরিও নেন। কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন এস এম আসাদের। তাই ঝুঁকি নিয়ে ছেড়ে দেন ব্যাংকের চাকরি। শুরু করেন গরুর খামার। গরুর দুধ থেকে তৈরি দই তিন বছর ধরে বিক্রি করছেন সাবেক এই ব্যাংকার। সবাই এখন ‘সয়েল মিল’ নামের দইয়ের আসাদ নামে চেনে তাঁকে।

অতটা সহজ ছিল না শুরুর পথচলা। এমবিএ পাস করে আসাদ গরুর খামার করছেন শুনলে বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হতো। এমনকি পরিবারের লোকজনও তাঁর জন্য আফসোস করত। এত পড়াশোনা করে ছেলে এসব কী করছে। ছিল পুঁজির সংকটও। মেজ বোন সেলিনা সুলতানা ও বন্ধুদের কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৯ সালে নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ফতেয়াবাদে নিজ বাড়ির আঙিনায় ৪টি গরু দিয়ে শুরু করেন খামার। তিন বছরের মাথায় গরু হয় ১১টি। দই বিক্রির টাকায় পরিশোধ করেছেন ঋণও।

শুরুতে গরু দেখাশোনা, দোকানে দোকানে গিয়ে দই বিক্রি করতেন আসাদ। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একার পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় রেখেছেন কর্মচারী। কিন্তু কেউ না থাকলে আসাদ নিজেই এখনো দই নিয়ে হাজির হন দোকান, কমিউনিটি সেন্টার কিংবা অনুষ্ঠানে।

বেসরকারি ইস্টার্ণ ব্যাংকে থাকাকালে ২৬ হাজার টাকা বেতন পেতেন আসাদ। কেন ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দই বিক্রি শুরু করলেন, তা জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বন্ধুরা গ্রুপ তৈরি করে বিনা মূল্যে রক্ত দান করতেন। এ পর্যন্ত নিজে ৩৯ বার রক্ত দিয়েছেন। ব্যাংকের চাকরির মাস শেষে বেতন। সারা দিন ব্যস্ত থাকায় অন্যের জন্য কাজ করার সুযোগ কম। সমাজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ যাতে পান, তাই ঝুঁকি নিয়ে শুরু করেন গরু পালন। বাজারের দইয়ে মানুষের আস্থা কম। তাই নিজের খামারের দই বিক্রি শুরু করেন।

আসাদ আরও বলেন, মাসে ছয় লাখ টাকার দই বিক্রি হয় তাঁর খামারের। বছরে আসে ৭২ লাখ টাকা। পবিত্র রমজান মাস ও গ্রীষ্মকালে চাহিদা বেশি থাকে। পুরো বছরে খরচ বাদ দিয়ে তাঁর ছয় লাখ টাকার বেশি আয় হয়। শুরুতে দোকানে দোকানে গিয়ে যখন দই বিক্রি করতেন, অনেকেই নানাভাবে কটূক্তি করতেন। এত পড়ালেখা করে আবার দই বিক্রি। মন খারাপ করতেন। কিন্তু নিজেকে বেশিক্ষণ সেই মন খারাপে আটকে রাখতেন না আসাদ। নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে থাকেন।

আসাদের সাফল্য দেখে তাঁর কাছে এখন অনেক শিক্ষিত ছেলে আসেন পরামর্শের জন্য—কীভাবে উদ্যোক্তা হবেন। তাঁদের একজন কামরুল হাসান। এমবিএ পাস করে তিনিও গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। জানতে চাইলে কামরুল হাসান বলেন, ‘আসাদ ভাইকে দেখে উৎসাহিত হয়েছি।’

আসাদ বলেন, আগে যাঁরা বাঁকা চোখে দেখতেন, তাঁরাই এখন বাহবা দেন। কোনো কাজই ছোট নয়। তাঁর দইকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি আয় থেকে সমাজের জন্য আরও কিছু করা তাঁর স্বপ্ন।

আরও পড়ুন