বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হ’ত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি)। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন। আজ বিকাল ৩টার দিকে বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে।

সিনহা হ’ত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালতে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিনহা হ’ত্যা মামলার চার্জশিটে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

র‌্যাবের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী জানা গেছে, সেদিন পুলিশের সোর্স নুরুল আমিনের কল পেয়েটেকনাফের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে ছুটে আসেন ইন্সপেক্টর মো. লিয়াকত আলী। কোনো ফোর্স না নিয়ে এসআই দুলালসহ মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান লিয়াকত। সিনহার গাড়ির আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি।

সেদিন রাত ৯টা ২৫ মিনিটে বিজিবি চেকপোস্ট অতিক্রম করে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার গাড়িটি পৌঁছে যায় শামলাপুর চেকপোস্টে। এপিবিএন সদস্য কনস্টেবল রাজীব গাড়িটি থামানোর সংকেত দেন। সংকেত পেয়ে থেমে যায় সিনহার গাড়ি। কনস্টেবল রাজীব পরিচয় জানতে চাইলে বাম পাশে বসা সাহেদুল ইসলাম রিফাত গাড়ির জানালা খুলে দেন।

এসময় গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিজের পরিচয় দেন। কুশল বিনিময় শেষে কনস্টেবল রাজীব ও অন্য দুই এপিবিএন সদস্য এসআই শাহজাহান আলী এবং কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল-মামুন ইমন স্যালুট দিয়ে গাড়িটি চলে যাওয়ার সংকেত দেন।

সংকেত পেয়ে গাড়িটি এগোতেই মেজর সিনহা নাম শুনেই পেছন থেকে চিৎকার করে সামনে চলে আসেন ইন্সপেক্টর লিয়াকত। আবার তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। পুনরায় তিনি নিজেকে মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা বলে পরিচয় দেন। নাম শুনে উত্তেজিত হয়ে লাফ দিয়ে সামনে গিয়ে ব্যারিকেড টেনে রাস্তা বন্ধ করে দেন লিয়াকত। রাস্তা ব্লকে লিয়াকতকে সহায়তা করেন এসআই নন্দ দুলালও।

এরপর ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তার পিস্তল তাক করে চিৎকার করে অশ্রাব্য ভাষায় গা’লিগা’লাজ করে গাড়িতে থাকা লোকদের দুই হাত উপরে উঠিয়ে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। ইন্সপেক্টর লিয়াকতের চিৎকারে রাস্তার দুই পাশের লোকজন এবং বাজারগামী লোকজন ঘটনাস্থলে ঘটনা দেখার জন্য দাঁড়িয়ে যায়

ইন্সপেক্টর লিয়াকতের নির্দেশে দুই হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নেমে আসেন ২য় আসনে বসা সাহেদুল ইসলাম রিফাত। পরে ড্রাইভিং সিটে বসা সিনহা গাড়ি থেকে দুই হাত উঁচু করে নেমে লিয়াকত আলীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ওই সময় ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী মেজর সিনহার পরিচয় নিশ্চিত জেনে, তার কোনো কথা না শুনে মেজর সিনহাকে ২ রা’উন্ড গু’লি করে এবং কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে আরও ২ রাউন্ড গু’লি করলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। গু’লি করার পর ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী অশ্রাব্য ভাষায় গা’লিগা’লাজ করে মেজর সিনহাকে ও সিফাতকে হ্যান্ডকাপ পরানোর নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশে এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত আহত সিনহাকে হ্যান্ডকাপ পরায়।

কিন্তু এসআই শাহজাহানের নিকট হ্যান্ডকাপ না থাকায় ইন্সপেক্টর লিয়াকত তাকে গা’লাগা’লি করে এবং রশি এনে বাঁধতে বলে। তখন কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন ইমন পাশের শামলাপুর বাজারের দোকান থেকে রশি নিয়ে আসলে লিয়াকত আলীর নির্দেশে এসআই শাহজাহান ও কনস্টেবল রাজিব মিলে সাহেদুল ইসলাম প্রকাশ রিফাতকে বেঁধে ফেলে।

গু’লিবিদ্ধ মেজর সিনহা তখন ব্যা’থায় গোঙ্গাচ্ছিলেন। এসময় তিনি কাকুতি মিনতি করতে থাকেন পানির জন্য। এটা শুনে ইন্সপেক্টর লিয়াকত আরও উ’ত্তেজিত হয়ে যান এবং বলে তোকে গু’লি করেছি কি পানি খাওয়ানোর জন্য?

এই কথা বলে ইন্সপেক্টর লিয়াকত আহত সিনহার কাছে যায়। তারপর বুকের বামপাশে জোরে জোরে লা’থি মা’রতে থাকেন এবং পা দিয়ে চেপে ধরেন।

আরও পড়ুন