সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিয়ের ছয় মাসের মধ্যেই কোভিডে স্বামীর মৃ’ত্যু হয়। পরে চিকিৎসার ৪০ লাখ টাকা ত্রাণ তহবিলে দিলেন তরুণী। ওই তরুণীর নাম মৌসুমী মোহান্তি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উরিষ্যাতে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে সবে সংসার শুরু করেছিলেন মৌসুমী। কিন্তু ভাগ্য যে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, কল্পনাও করতে পারেননি। ২০২১ সালের ৫ মে কোভিডে আক্রান্ত হলেন মৌসুমীর স্বামী অভিষেক

। প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় অভিষেককে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা জানালেন তার ‘এক্সট্রাকর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ (একমো)-র প্রয়োজন। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ ছিল না মৌসুমীদের। পরে নেটমাধ্যমে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেন মৌসুমী। তাতে সাড়াও পেতে শুরু করেন যথেষ্ট।

তারপরই অভিষেককে নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন চিকিৎসার জন্য। পরে অভিষেককে বিমানে করে কলকাতায় আনা হয়েছিল। ৮৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালানোর পর হেরে যান অভিষেক। বিয়ের ছ’মাসের মাথায় স্বামীকে হারান মৌসুমী।

মৌসুমী জানান, অভিষেকের চিকিৎসার জন্য ৪০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এখনও অনেকে সাহায্য করছেন। কিন্তু যার চিকিৎসার জন্য সেই টাকা, তিনিই যখন নেই, সেই টাকা অন্য কারও কোভিড চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওই সময় যেভাবে মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আর্থিক সহযোগিতা করেছেন, লকডাউনের কারণে আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও যেভাবে তারা এগিয়ে এসেছেন তা সত্যিই অভাবনীয়। আমি কৃতজ্ঞ সেই সকল মানুষের কাছে।

গত ১৭ জানুয়ারি বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ভদ্রকের জেলাশাসকের দফতরে যান মৌসুমী। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৩০ লাখ টাকা দান করেন। বাকি ১০ লাখ টাকা জেলার রেড ক্রস সোসাইটি-তে দান করে দেন। মৌসুমী বলেন, আমরা সবাই অতিমারির ফল ভুগছি। যদি এক জনের জন্য রাখা চিকিৎসার টাকা অন্য কারও কাজে লাগে, তার চেয়ে আর বড় কিবা বা হতে পারে।

যেহেতু অভিষেক আর আমাদের মাঝে নেই, তাই ওর চিকিৎসার জন্য সংগ্রহ করা টাকা দুঃস্থ মানুষদের চিকিৎসার কাজে লাগাতে চাই। তাই সেই টাকা দান করলাম।

আরও পড়ুন