বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

কেকের বদলে দশ টাকা দামের পাউরুটি কেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালন এবং সেটি ফেইসবুকে লাইভ করার ঘটনায় ‘অবমাননার’ অভিযোগে রাজশাহীর দুই মাদ্রাসা শিক্ষককে কা’রাদণ্ডের বদলে শা’স্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর তিনটি বই পড়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ এ রায় ঘোষণা করেন রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়াউর রহমান।

প্রবেশন আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বৈরতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সালাম ও একই মাদ্রাসার শিক্ষক গোলাম কবির। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমত আরা বলেন, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১/৩১ ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে আদালত কা’রাদণ্ডের শা’স্তির পরিবর্তে শর্তের ভিত্তিতে প্রবেশন মঞ্জুর করে তাদের মুক্তি দেন।

শর্তানুযায়ী, প্রবেশনকালীন আসামির ১ বছরের জন্য আদালত নিয়োগকৃত একজন প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। এই সময়কালে আসামিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন’ ৩টি বই পড়বেন। সেই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর জাহানার ইমামের লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ও রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা ‘একাত্তরের চিঠি’ এই দুটি বইসহ পাঁচটি বই পড়বেন এবং নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জানাবেন। প্রবেশনে মুক্তি প্রাপ্ত আসামিদের ১০টি বনজ ও ১০টি ফলজ গাছ রোপনের নির্দেশ দেন আদালত।

আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শারমীন কানিজ বলেন, আমি আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট। আশা করি প্রবেশনপ্রাপ্ত আমার দুইজন মক্কেল আদালতের শর্ত সঠিকভাবে পালন করে মামলা থেকে মুক্তি পাবে। গত বছরের ১৭ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বৈরতলা দাখিল মাদ্রাসায় দশ টাকা দামের একটি পাউরুটি কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করা হয়।

সেই ভিডিও ভাইরাল হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী ইউনুস আলী বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত করে ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

আরও পড়ুন