রবিবার, ০৩ Jul ২০২২, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

এমপি-উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানের পর ইউপি চেয়ারম্যান পদেও জামানত হারালেন সেই আশরাফুল। ষষ্ঠ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ৭টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চলে ভোটগ্রহণ। রাতে ঘোষণা করা হয়েছে ফলাফল।

এ নির্বাচনে নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একেএম আশরাফুল আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; কিন্তু ফলাফল অনুযায়ী তিনি জামানত হারিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পেশায় আইনজীবী একেএম আশরাফুল আলম ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রতীক হারিকেনে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৯৭ ভোট। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এবাদুল করিম ২৫ হাজার ১৫২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় আশরাফুল আলমের।

এর পরের বছর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া নবীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট একেএম আশরাফুল আলম। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে তার মাইক প্রতীকে ভোট পান ২ হাজার ৭৩৯। এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাকির হোসেন সাদেক চশমা প্রতীকে ২৪ হাজার ৯১১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। ফলে সেবারও তিনি জামানত হারান।

সোমবার অনুষ্ঠিত বিটঘর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন একেএম আশরাফুল আলম। ভোট গণনা শেষে রাতে প্রকাশ করা বেসরকারি ফলাফলে এ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেহেদী জাফর দস্তগীর ৬ হাজার ৭২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কিবরিয়া ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮৯২ ভোট।

এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা চেয়ারম্যান প্রার্থী একেএম আশরাফুল আলম টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ ভোট। এছাড়াও হাসান উল্লাহ চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭ ভোট, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু মোছা লাঙ্গল প্রতীকে ৪৫ ভোট, সোলাইমান ভূঁইয়া সোহাগ মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩৫০ ভোট, আবুল হোসেন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭১ ভোট। এ ইউনিয়নে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১৩ হাজার ৭১৫।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী নির্বাচনে প্রদত্ত বৈধ ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট কোনো প্রার্থী না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে অনুযায়ী বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৩ হাজার ৭১৫ ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ১৭১৪ ভোট যেসব প্রার্থীরা পাননি তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

নবীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজগর আলী এ ফলাফল নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন