বৃহস্পতিবার, ৩০ Jun ২০২২, ১০:২২ অপরাহ্ন

স্বামীর জমানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে পরকীয়া প্রেমিক মাসুদের (১৮) সঙ্গে পালিয়েছে এক সন্তানের জননী লামিয়া (২১)। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার তালতলীতে। ​লামিয়া তার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি আমতলী যাওয়ার কথা বলে শিশুপুত্রসহ প্রেমিক মাসুদের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনা পর লামিয়ার স্বামী মিন্টু তালতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

স্বামী মিন্টু বলেন, আমার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিক মাসুদ নামের ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গেছে। সোমবার খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে প্রথমে আমরা থানায় ডায়েরি করেছি। গতকাল মঙ্গলবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, স্ত্রী লামিয়া তালতলী উপজেলার সোনখোলা এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে পরকীয়া প্রেমিক মাসুদের সঙ্গে পালিয়ে গেছে।

লামিয়ার মা রিনা বেগম জানান, আমার মেয়ে তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়ে গেছে, এখনো তার কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, পালিয়ে যাওয়া স্ত্রী লামিয়াকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তার স্বামী মিন্টু। গৃহবধূ লামিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আমতলী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসেম ফকিরের ছেলে মিন্টু মিয়ার সঙ্গে উপজেলার লাউপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের কন্যা লামিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী লামিয়া পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর ভেতরেই একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন লামিয়া।

তারপরও লামিয়ার পরকীয়া থামেনি। এ বিষয়ে এলাকায় বসে একাধিকবার সালিস মীমাংসা হয়। এরপর দুই মাস আগে স্বামী মিন্টু তালতলীতে নির্মাণাধীন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করতে আসেন। এ জন্য আমতলী থেকে তালতলীতে কাজে যোগদান করতে অসুবিধা হওয়ায় গত মাসে স্ত্রী লামিয়াকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে এসে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজে যোগদান করেন মিন্টু।

মঙ্গলবার বিকেলে স্বামীর কাছ থেকে তার জমানো নগদ দুই লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণ নিয়ে লাউপাড়া বাপের বাড়ি থেকে আমতলী শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর লামিয়ার আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। লামিয়ার সঙ্গে থাকা দুটি কন্টাক্ট নম্বরও বন্ধ রয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় লামিয়া তার চার মাসের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন