শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

আরবি আযান শব্দের অর্থ হলো ‘আল-ই’লাম’ অর্থাৎ জানিয়ে দেয়া, শুনিয়ে দেয়া ঘোষণা জারি করা। আযান উচ্চারণের মাধ্যমে নামাজে উপস্থিত হওয়ার ঘোষণাই নিকট ও দূরের মুমিন-মুসলমানদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়।

মধুর আযানের ধ্বনিতে সমগ্র ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয় আকুল হয়। যে মানুষটি সর্বপ্রথম এই পবিত্র আযান কন্ঠে ধারণ করেছিলেন তাঁর নাম হযরত বিলাল (রা), ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। আজ আমরা তাঁর জীবন কাহিনী জানবো, জানবো ইসলামের জন্য আমৃ’ত্যু লড়াই করে যাওয়া এক সাহসী যোদ্ধার কথা।

হযরত বিলাল (রা) জন্ম নেন সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে। জাতিতে তিনি একজন আফ্রো-আরব। পিতার নাম রাবাহ আর মায়ের নাম হামামা। তাঁর পিতা একজন ক্রীতদাস হলেও মা হামামা ছিলেন শাহজাদী। শাহজাদী কেমন করে গোলামের স্ত্রী হলো সেটা জানতে হলে আমাদের আরেকটু পিছনে ফিরে যেতে হবে।

শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) জন্মগ্রহণ করেছিলেন ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে। সেই বছরই আবিসিনিয়ার বাদশা আবরাহা তার বিরাট হস্তি বাহিনী নিয়ে পবিত্র মক্কা নগরী আক্রমণ করে। হস্তি বাহিনীর ভয়ে আরবরা ভয়ে আতঙ্কিত হলেও আল্লাহর ঘর রক্ষা করার ব্যবস্থা করলেন আল্লাহ নিজেই। হস্তিবাহিনীসহ আবরাহা পরাস্ত হল। এই ঘটনার কথা মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরীফে সূরা ফিলে উল্লেখ করা আছে। আরবি ‘ফিল’ শব্দের বাংলা অর্থ ‘হাতি’।

যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আবরাহার সমস্ত বাহিনী পালিয়ে গেলো। যারা পালাতে পারলো না তারা আরবদের হাতে বন্দী হলো। এই বন্দীদেরই একজন ছিলেন বিলাল (রা) এর মা হামামা। হামামা ছিলেন স্বয়ং বাদশাহ আবরাহার ভাতিজী। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে হলেন দাসী। সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি খলফের ঘরে তার স্থান হলো বাঁদী হিসেবে। সেখানেই আবিসিনিয়ার আরেক দাস রাবাহ কাজ করতো। তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের ঘরেই জন্ম নেন ইসলামের একনিষ্ঠ কাণ্ডারি হযরত বিলাল (রা)।

হযরত বিলাল (রা) এর চেহারা মুবারকের যে বর্ণনা বিভিন্ন বই পুস্তকে লিপিবদ্ধ রয়েছে তা থেকে জানা যায়, একজন আফ্রো-আরব হিসেবে তাঁর গায়ের রং ছিলো কালো, দেহের গঠন ছিলো লম্বা, মাথার ঘন কালো চুলে তিনি লাল খিজাব ব্যবহার করতেন।

বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়ায় শিশু বিলাল বড় হচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই বিলালকে এতিম করে তার বাবা-মা পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। এর আগে বিলালকে রেখে যান মনিব খলফের কাছে।

একজন ক্রীতদাসের ছেলে হিসেবে তাঁকেও ক্রীতদাস হতে হলো। বিলাল সেভাবেই চলছিলেন।

আরও পড়ুন