শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ১১:২৫ অপরাহ্ন

আমাদের সবাইকে একদিন মরতে হবে। যার সূচনা হয়েছে তার সমাপ্তি ঘটবেই। এটা খোদা পাকের শাশ্বত চিরন্তন বিধান। এ অমোঘ বিধানের কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন নেই।

ইংরেজি সাহিত্য স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাবরিনা খালেদ (২৪)। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় অংশও নিয়েছিলেন। ছোট বোন সামিয়া খালেদের (১৮) ব্যস্ততা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে। এই দুই মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছিলেন বাবা আলাউদ্দিন খালেদ। কিন্তু সব স্বপ্ন পুড়ে গিয়ে নিভে গেল আজ। গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে হারালেন দুই মেয়েকে। সন্তান হারানোর শোকে বাবা–মা এখন পাথর।

গত বৃহস্পতিবার নগরের বাকলিয়া থানার রাহাত্তরপুল এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুনে দগ্ধ হয়েছিলেন বাসায় থাকা দুই বোন। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই প্রতিবেশীরা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এরপর দগ্ধ দুই বোনকে প্রথম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের দুজনের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বড় বোনের এবং আজ সোমবার ছোট বোনের মৃত্যু হয়।

এমন করুণ মৃ’ত্যুর জন্য বাড়ির মালিক ও তত্ত্বাবধায়কের গাফিলতি ও অবহেলাকে দায়ী করছেন নিহত তরুণীদের স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, সংযোগ লিকেজের কারণে গ্যাস বের হওয়ার বিষয়টি কয়েকবার বাড়ির মালিক ও তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা ব্যবস্থা নেননি।

নিহত সাবরিনা খালেদ (২৪) আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) থেকে ইংরেজি সাহিত্য স্নাতকোত্তর করেন। ছোট বোন সামিয়া হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নরত ছিল। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার ফতেহ নগরে। মা শারমিন খালেদকে নিয়ে নগরের বাসায় থাকতেন দুই বোন। বাবা আলাউদ্দিন খালেদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তবে দুর্ঘটনার দিন মা ও বাবা গ্রামের বাড়িতে ছিলেন।

আরও পড়ুন