রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৭ অপরাহ্ন

খাবারের অভাবে বুকে দুধ নেই। নেই দুধ কেনার কোনো টাকা। সন্তানের বাবা দু’র্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন। এ অবস্থায় দুই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা সাবিনা বেগম।

চক্ষু ল’জ্জায় হাত পাতেন না কারো কাছে। কখনো মনে করেন খাবারের জন্য একটি সন্তানকে দত্তক দিবেন। আবার মায়ার টানে তাও করতে পারছেন না।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি ঘাট খামারি পাড়া গ্রামের সাবিনা বেগমের তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেবীপুর গ্রামের ট্রাক চালকের সহকারী নজরুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের আড়াই বছর পর সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন স্বামী নজরুল ইসলাম। দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এখন তার ঘরে দেড় বছরের সুমাইয়া আক্তার এবং এক মাস বয়সের মরিয়ম নামে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।

সাবিনার বাবা আফতাব শেখ জানান, আমার চার সন্তানের মধ্যে সাবিনা তৃতীয় সন্তান, তিন বছর আগে অনেক কষ্ট করে মানুষের কাছে ধার দেনা করে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের আড়াই বছর পর জামাই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে সাবিনা চলে আসে আমার বাড়িতে। আমি ২৭ বছর রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। করোনার মধ্যে কাজকর্ম নেই। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে আমাদের। মেয়ের কোলের শিশুর দুধের টাকা জোগার করতে পারছেন না তিনি। তিনি সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

সাবিনা বেগম জানান, বিয়ের পর ভালোভাবে কাটছিলো দিন। হঠাৎ স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে নানান সমস্যা সম্মুখীন হয়ে পড়ি। শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় চলে আসি বাবার বাড়িতে। এক মাস আগে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে সন্তান জন্ম নেয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাবিনা বলেন, বর্তমানে বাচ্চাটাকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। সবার কাছে আমার অনুরোধ বাচ্চাটাকে বাঁচান।

জয়পুরহাট সদর ইউএনও আরাফাত হোসেন জানান, সাবিনা বেগমের বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকারি আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন