বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০১:১১ অপরাহ্ন

বন্যা আক্তার বিথী। বিয়ে হয়েছে ৬ বছর আগে। বিয়ের পর ঢাকা উত্তর শাহজাহানপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন সোহেল ও বিথী দম্পতি। সুখের সংসার ছিল তাদের। কিন্তু গত ১৬ জানুয়ারি চার বছরের সন্তান লামিয়াকে ছেড়ে বিথী মাসুম মিয়া নামে এক যুবকের হাত ধরে চলে আসেন লালমনিরহাটে আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বারোঘড়িয়া গ্রামের সজিব বাজার এলাকায়। এর মধ্যে কেটে যায় ২০ দিন।

চার বছরের শিশু সন্তান লামিয়া ২০ দিন ধরে মাকে কাছে পাচ্ছে না। মায়ের জন্য কান্না কোনো রকম ভাবে থামানো যাচ্ছে না। ঘুমের মধ্যেও আম্মু আম্মু বলে ডাকছে শিশুটি। অবশেষে মায়ের খোঁজে বাবা সোহেল মিয়ার কোলে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় আসে লামিয়া। কিন্তু দুদিনেও মা বন্যা আক্তার বিথীর (২৩) সন্ধান পায়নি সে।

মায়ের খোঁজে ঢাকা থেকে নানি ও বাবার কোলে রবিবার সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় আসে শিশু লামিয়া। কিন্তু দুদিন ধরে মায়ের খোঁজ না পেয়ে সোমবার বাবার কোলে আবার ঢাকা ফিরে যায় সে।

বিথীর ফুফু মিনা বেগম বলেন, ভাতিজির সন্ধানে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ছুটে এসেছি কিন্তু খোঁজ পেলাম না। তবে ছেলের ঠিকানা পেয়েছি ঢাকা গিয়ে আইনের আশ্রয় নেবো। তার দাবি, চার বছরের শিশুকে ছেড়ে কোনো মা অন্যের হাত ধরে আসতে পারে না। তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

বিথীর স্বামী সোহেল মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী ভুল করে লালমনিরহাটে চলে আসছে। তাই আমি আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে মেয়ে লামিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আসছি। অন্তত আমার সন্তানের জন্য হলেও তাকে আমি ফেরত চাই। অভিযুক্ত মাসুম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বিথীর বিষয়ে তার পরিবারের কেউ জানেন না বলে জানান।

জানা গেছে, আট বছর বয়সে বন্যা আক্তার বিথীর বাবা আব্দুল করিম ও মা মিনোয়ারা বেগম মারা যান। সে থেকেই বিথী ফুফু মিনা বেগমের কাছে বড় হন। গত ছয় বছর আগে সোহেল নামে এক যুবকের সঙ্গে বিথীর বিয়ে দেন তিনি।

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বলেন, বন্যা আক্তার বিথীর নিখোঁজের বিষয়ে ঢাকার শাহজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। আমাদের থানা থেকেও তাকে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন