শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

পাবনা সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের পোস্ট অফিসে পল্লী কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড (নগদ) এর নামে গ্রাহকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পোস্টম্যান ও পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে।

‘নগদে টাকা রাখলে লাভ বেশি এজন্য সরকার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে ডিজিটাল সেবা দেবার জন্য পোস্ট অফিসের পাশাপাশি একটি সংস্থা চালু করেছে নগদ।’ এভাবে ভুল বুঝিয়ে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি পোস্টম্যান মোহাম্মদ নূর হোসেন বকুল ও পোস্টমাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের যোগসাজসে ঐ এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন, বুলু খাতুন, খালেক ফকির, সুফিয়া খাতুন, হুলুফা খাতুন, মানিক মোল্লাসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে লাভ দেয়ার কথা বলে টাকা জমা নেয় তারা। আমাদের একেকজনের কাছ থেকে ২ লাখ, ৫ লাখ, ৭ লাখ, ৮ লাখ করে টাকা নিয়েছে। পোস্টম্যান নূর হোসেন বকুল আমাদের বলে নগদে টাকা রাখলে লাভ বেশি হবে। তিনি আমাদের নগদের টোকেনও দিয়েছেন। টোকেনে লেখা আছে পল্লী কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড নগদ রেজিঃ নং-সি-৫৩৬৭৭ (৩৪২) ২০০৪। আমরা কিছুদিন পরে পোস্ট অফিসে টাকা তুলতে গেলে পোস্টম্যান নূর হোসেন বকুল ও পোস্টমাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আমাদের সাথে শুরু করেন নানা টালবাহানা। টাকা না দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকে।

তখন আমরা বিষয়টি আমাদের স্থানীয় সাগরকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরীকে জানালে তিনি অভিযুক্ত পোস্টম্যানকে পরিষদে ডেকে নেন এবং কথা বলে বুঝতে পারেন যে তারা গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করেছেন।

এ বিষয়ে সাগরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী বলেন, নগদে টাকা রাখলে লাভ বেশি, এমন লোভ দেখিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার একদিন পরেই পাবনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে সাতবাড়িয়া পোস্ট অফিসে এবং সাতবাড়িয়ার পোস্টমাস্টার রফিকুল ইসলামকে সাগরকান্দি পোস্টঅফিসে বদলি করেন।

এ বিষয়ে সাতবাড়িয়ার নতুন পোস্টমাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, পোস্টম্যান নূর হোসেন কোথায় আছে তা তিনি জানেন না, তবে গ্রাহকের বই হাতের দেখে বলেন যে এসব বই ডাক বিভাগের না। গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পোস্টম্যান মোহাম্মদ নূর হোসেন বকুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বকুলের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরীর সাথে তাদের কথা হয়েছে। গ্রাহকদের সব টাকা তারা পরিশোধ করে দেবেন।

অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সাথে কথা বললে তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে সুজাানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলী বলেন, তিনি বিষয়টি কয়েকজন ভুক্তভোগীর মাধ্যমে জেনেছেন। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

পাবনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের একজন পোস্টম্যান লাখে এক হাজার টাকা লাভ দেয়ার কথা বলে পল্লী কুরিয়ার সার্ভিস প্রা. লি. (নগদ) এর মতো করে বই তৈরি করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পোস্ট অফিসের সাথে কুরিয়ারের এ ধরনের কোন সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগীরা কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন