বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

অসুস্থ হয়ে মা’রা যান ২৬ বছর বয়সী মুক্তা খাতুন। হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ নেয়া হয় বাড়িতে। গতকাল শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দাফনের উদ্দেশ্যে গোসলের দেয়ার সময় নড়ে ওঠে মরদেহ। পরে দ্রুত তাকে নেওয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুনরায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এমনই ঘটনা ঘটে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামের পূর্বপাড়ায়। মুক্তা খাতুনের মৃ’ত্যুর ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে জেলা জুড়ে। মুক্তা খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

মুক্তা খাতুনের বোন রত্না খাতুন আরটিভি নিউজকে বলেন, শুক্রবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ্যবোধ করেন মুক্তা খাতুন। তাকে নেওয়া হয় আলমডাঙ্গার ফাতেমা টাওয়ারে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেখানে তাকে ভর্তি রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মারা যান মুক্তা খাতুন। পরে তার মরদেহ নেওয়া হয় বাড়িতে।

তিনি আরও বলেন, গোসলের জন্য নেয়া হলে হঠাৎ নড়ে ওঠে মুক্তার মরদেহ। শরীরটা গরম গরম লাগছিল। মনে হচ্ছিল আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দ্রুত তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাতে তার মরদেহ নামাজের জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আলমডাঙ্গার ফাতেমা টাওয়ারের মালিক মুঞ্জুর আলী আরটিভি নিউজকে বলেন, শুক্রবার সকালে মুক্তা খাতুন নামের এক নারীকে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের এখানে আনা হয়। তাদের পরিবারের লোকজন বলেন, মুক্তা খাতুন চোখে দেখছেন না। তার মাথা ঘুরছে। ডা. শামসুল আলম ও ডা. কামরুন নাহার ওই রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এখানেই ভর্তি রাখেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মারা যান।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহাবুব এ খোদা আরটিভি নিউজকে বলেন, সন্ধ্যায় মুক্তা খাতুন নামের এক নারীকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আমরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত অবস্থায় পাই। অনেই আগেই তিনি মারা গেছেন বলে তার পরিবারকে জানানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এএসএম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, মৃত্যুর পর মানুষের শরীর শক্ত হয়ে যায়। সে কারণে মরদেহ স্পর্শ করলে সমস্ত শরীর নড়ে ওঠায় মনে হতে পারে মৃত ব্যক্তি নড়ছে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শোনার পর মুক্তা খাতুনের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখান থেকে জানা যায় মুক্তা খাতুন অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃ’ত্যু ছিল স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন