রবিবার, ০৩ Jul ২০২২, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

সাবেক বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক এম খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার একটি আদালত। গত শুক্রবার একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা দেন। আগামীকাল সোমবার এ বিষয়ে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। কুয়ালালামপুর থেকে পাওয়া খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলেছে, শরণার্থীদের নিজ দেশে জোর করে ফেরত পাঠানো যায় না।

খায়রুজ্জামান জেলহত্যা মামলার আসামি ছিলেন। বিএনপি সরকারের সময় দেওয়া মামলার রায়ে তিনি খালাস পান। তখন তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে দেশে তলব করলেও তিনি ফেরেননি। এর প্রায় ১৩ বছর পর খায়রুজ্জামান গত বুধবার মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার হন।

মালয়েশিয়ার সূত্রগুলো জানায়, ভিসার মেয়াদ না থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ায় অবস্থানের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ। এর পরই বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত পেতে উদ্যোগ নেয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, খায়রুজ্জামানকে ফিরিয়ে আনতে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁকে মালয়েশিয়ায় ‘ডিপোর্টেশন সেন্টারে’ রাখা হয়েছে। জেলহত্যা মামলায় খায়রুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সরকার ওই মামলা আবারও পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ খতিয়ে দেখতে চায়।

খায়রুজ্জামানের আইনজীবী এ এস ঢালিওয়াল ফ্রি মালয়েশিয়া টাইমসকে বলেন, খায়রুজ্জামানের বৈধ ট্রাভেল ডকুমেন্ট আছে। তিনি মালয়েশিয়ায় কোনো কাজ করছিলেন না, বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তিনি রাজনৈতিক শরণার্থী। তাঁকে বহিষ্কার করার অধিকার মালয়েশিয়ার নেই।

ইউএনএইচসিআরও মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদ অনুমোদন করুক বা না করুক, শরণার্থীদের জীবন বা স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো দেশে জোর করে ফেরত না পাঠানো প্রতিটি দেশের দায়িত্ব।

খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমান যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি ফ্রি মালয়েশিয়া টাইমসকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খায়রুজ্জামানের গ্রিন কার্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে। কিন্তু মালয়েশিয়ার পুলিশ তাঁর নিরাপত্তা ছাড়পত্র না দেওয়ায় গ্রিন কার্ড পাচ্ছেন না।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) খায়রুজ্জামানকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তার জন্য মালয়েশিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছে। এইচআরডাব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ফিল রবার্টসন খায়রুজ্জামানকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ারও আহবান জানান।

আরও পড়ুন