শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

এবার বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, গবেষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন যে তাদের ধারণা দেশটি করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের চূড়া অতিক্রম করেছে, তবে সতর্ক না হলে আবারও নতুন ঢেউয়ের আশঙ্কা আছে। সংক্রমণ সংখ্যা, হার ও মৃত্যুর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন যে মূলত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই এই ঢেউ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশে।

তারা বলছেন যে, জানুয়ারির শেষ দিকে যারা সংক্রমিত হয়েছেন তাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ার কারণেই এখন ২/৩ সপ্তাহ পর এসে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বা উর্ধ্বমুখী। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলছেন যে, তারা মনে করছেন করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার এখন নিম্মমূখী এবং পিক সময়টা পার হয়েই এসেছে বলা যায়।

এদিকে সংক্রমণ এখন নিম্নমুখী তবে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সংক্রমণের হার এখনো অনেক কমতে হবে। শতকরা দশ শতাংশের নীচে এবং এরপর ৫ শতাংশের নীচে আসতে হবে ধারাবাহিকভাবে। আগের দুই দফায় সংক্রমণের চূড়ায় উঠার পর সংক্রমণ যে গতিতে কমে এসেছিলো এবার তুলনামূলক কম গতিতে সেটি কমছে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের ৮ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে মোট শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ০৪ হাজার ৮২৬ জন। আর এ সময়ে মোট মারা গেছে ২৮ হাজার ৭৯১ জন। সবশেষ গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণের হার ও সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় আরো কমেছে। এ সময়ে নতুন করে ৫০২৩ জন শনাক্ত হয়েছে এবং শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫০। তবে মারা গেছে ২০ জন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের এ হিসেবে দেশের প্রকৃত চিত্র নেই, কারণ স্বাস্থ্য বিভাগ শুধু হাসপাতালে করা টেস্ট বা চিকিৎসার জন্য আসা ব্যক্তিদের তথ্য উপাত্তই দিয়েছে। অনেকে বাড়িতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন যাদের খোঁজ কেউ রাখেনি বলেও জানান তিনি।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর জানিয়েছেন, আমরা ওমিক্রনের যত মিউটেশন দেখছি সেটি আবার ততোই সংক্রমিত হচ্ছে। যখনই ভাইরাস ব্যাপক ট্রান্সমিশনে থাকে তখন ভাইরাসের আরো বেশি মিউটেশনের সম্ভাবনা থাকে। তখন হয়তো ভাইরাসটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আবার শক্তিশালীও হতে পারে।

তবে এটি সত্যি যে অমিক্রন আগের যেকোনো ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক হলেও, রোগীকে আগের মতো কাবু করতে পারে না এবং এই ধরণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কিংবা মৃত্যুর হারও অনেক কম। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর ও সংস্থাটির উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল তিন জনই একমত যে এই দফায় করোনার পিক বা চূড়া পার করেছে বাংলাদেশ।

এদিকে ডাঃ মুশতাক হোসেন বলছেন এখন যারা মারা যাচ্ছে তারা ২/৩ সপ্তাহ আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ এখন সংক্রমণ কম কিন্তু মৃত্যু বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, তবে মনে রাখতে হবে যে ঘুরে ফিরে নতুন নতুন ওয়েভ আসতে পারে। সেটি পুরনো ভাইরাস দিয়েও হতে পারে আবার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দিয়েও হতে পারে। কারণ মিউটেশন হয়ে কখন কোন ভ্যারিয়েন্ট কেমন হয় তাতো আমাদের জানা নেই।

আরও পড়ুন