সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

আমার মু’ত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। বাবা-মা তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি কাইয়ুমকে ভালোবাসি, আমাদের প্রেম খাঁটি ছিল’- এমন সু’ইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছেন ১৬ বছর বয়সী রুমা। প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করায় অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
রুমার বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার শিকারীপাড়া গ্রামে। বাবার নাম আলাউদ্দিন মোল্লা। লেখাপড়া করতেন তালতলী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিজ ঘর থেকে রুমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। তবে প্রেমিকার আত্মহত্যার পর থেকে পলাতক রয়েছেন প্রেমিক কাইয়ুম। তিনি শিকারীপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রুমার সঙ্গে কাইয়ুমের প্রেম চলছিল। তবে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি দুই পরিবার। সম্পর্ক ভাঙতে ছেলে-মেয়েকে চাপ দিতে থাকেন মা-বাবা। কিন্তু কোনোভাবেই প্রেমিককে ছাড়তে রাজি ছিলেন না রুমা। প্রেমিককেই বিয়ে করতে অনড় থাকেন তিনি।

এদিকে, রুমাকে বিয়ে দিতে উঠেপড়ে লাগে পরিবারের লোকজন। শনিবার বিকেলে রুমার জন্য পাত্র দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রুমা। ওইদিন সকালে প্রাইভেট পড়া শেষে তিনি বাড়িতে ফিরে এসে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাত খান। কিছুক্ষণ পর মাঠে ধান শুকানোর কাজে যান রুমার বাবা-মা।

এ সুযোগে সুইসাইড নোট লিখে রুমা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেন। মাঠ থেকে বাবা-মা ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে মেয়েকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তখন তারা বসতঘরের দোতালায় রুমাকে ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ও একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওইদিন বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়।

সুইসাইড নোটে রুমা লিখেন, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। বাবা-মা তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি কাইয়ুমকে ভালোবাসি, আমাদের প্রেম খাঁটি ছিল। শুধু একদিন বাজার থেকে গাড়িতে করে বাড়িতে আসার পথে আমি কাইয়ুমের হাত ধরেছি। এছাড়া আমাদের ভেতরে আর কোনো সম্পর্ক হয়নি। ভালো থেকো বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

স্থানীয়রা জানায়, রুমা একই গ্রামের কাইয়ুমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করছিল। ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি তাদের পরিবার। রুমার পরিবার অন্য একটি ছেলের সঙ্গে রুমাকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে অভিমান করে রুমা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহত রুমার বাবা আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, আমার মেয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। কেন করেছে তা আমি জানি না?

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, প্রেমের সর্ম্পকের কারণে রুমা ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে ওই মেয়ের লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে মৃত্যুর কারণ লিখে গেছে।

আরও পড়ুন