সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

নাটোরের বেসরকারি বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অফ ইইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করেছেন অহনা আরেফিন । পার্ট টাইম শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বেসরকারি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি টিচিং এন্ড রিসার্চ এ্যাসিসটেন্ট হিসেবে বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা গেছে । এবার তিনি প্রভাষক পদে নিয়োগ পেলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেখানে নিয়োগ পায়নি বুয়েট, কুয়েট,রুয়েট, চবি সহ প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অহনা আরেফিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদিকুল আরেফিনের মেয়ে।অভিযোগ রয়েছে, তিনি ববি উপাচার্যের মেয়ে বলেই তাকে সিভি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারী ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষ রিজেন্ট বোর্ডে এ নিয়োগ অনুমোদন হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগদান করেন বলেও জানা গেছে। ববি উপাচার্যের মেয়ের নিয়োগের জের ধরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তর্ক-বিতর্কের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাহমুদ আর তুরাজ নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়া যায় অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ড মেডেলিস্টরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়।

আরেক শিক্ষার্থী রথীন্দ্রনাথ বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, আহা! কি সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্প্রদায়! কেউ আত্মীয়বান্ধব আবার কেউ কলিগ বান্ধব। বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে হলে এখন ভিসিদের আত্মীয় স্বজন হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ৩ জন শিক্ষক নিয়োগের বিপরীতে ১৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এদিকে রিজেন্ট বোর্ডের কার্যবিবরণী স্বাক্ষর হওয়ার পূর্বেই রেজিস্ট্রার কর্তৃক নিয়োগপত্র পেয়ে সে তার কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ জানিয়ে বলেন, বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক নিয়োগে যেখানে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাচ্ছে না সেখানে বুয়েট, কুয়েট বা রুয়েট এর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে তৃতীয়/চতুর্থ ক্যাটাগরীর কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা কোনো শিক্ষার্থীকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক দেওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য লজ্জাজনক, এখানে ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অশুভ লক্ষন। তবে এখানে শুধু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কিংবা প্রভাবশালী কারও খুঁটির জোরেই এমনটি হতে পারে। কিছু কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমাদের ধারণা একদমই অপ্রীতিকর। আবার কোন কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট বিক্রি করে থাকে। এদেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা চরম হতাশাজনক।

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সেন্টার অব এক্সিলেন্স এখানে যারা বেস্ট ক্যানডিডেট তারাই নিয়োগ পাবে বলে মনে করি। তিনি নিয়োগের বিষয়ে বলেন, একাডেমিক এক্সেলেন্সির পাশাপাশি যদি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় আপত্তির কিছু নেই। তার নিয়োগের ব্যাপারে একাডেমিক নিয়োগ কমিটি, রিজেন্ট বোর্ড অবশ্যই এগুলো আমলে নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে মনে করি।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড . মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, যেখানে সিলেকশন বোর্ড বোর্ডে সিলেক্ট হওয়ার পর রিজেন্ট বোর্ডে পাশ হয়েছে সেখানে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নাই। রিজেন্ট বোর্ডের কার্যবিবরণী স্বাক্ষর হওয়ার পূর্বেই যোগদানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ মুরাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা উপাচার্য স্যার আলাদা ভাবে অনুমোদন দিয়েছেন। তবে নিয়োগের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.এ কিউ এম মাহবুব বলেন, আইনে বলা হয়েছে সরকারি আধা সরকারি বেসরকারি যে কোন প্রতিষ্ঠানে থেকে পাশকৃত শিক্ষার্থী নেওয়া যাবে, কোথাও বলা নেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে থেকে নেওয়া যাবে না। সিলেকশন বোর্ডে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক, রিজেন্ট বোর্ড কর্তৃক নিয়োগকৃত উচ্চপর্যায়ে লোকজনরা আছেন সিলেকশন বোর্ডে, তারা যেটা ভালো মনে করেছেন সেভাবে সিলেকশন করেছেন। আমরা এর আগে বুয়েট থেকে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক নিয়েছিলাম যারা এখানে সমন্বয় করতে পারেনা বলে এখানে স্থায়ীভাবে থাকেনা।

তিনি আরও বলেন,কুয়েট থেকে আসা শিক্ষার্থী ভাইভা বোর্ডে ইংলিশে প্রশ্ন করা সত্ত্বেও বাংলায় উত্তর দিয়েছেন যার থেকে বোঝাই যায় তার স্কিল কতদূর। ভালো ক্যাম্পাসে পড়লেই যে শিক্ষার্থী ভালো হবে এমন তো কোন কথা নেই, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যদি ভাইভা বোর্ডে ভালো করতে পারে তাহলে সে তো নিয়োগ পেতেই পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি ভালো সিজিপিএ থাকে এবং ভাইবা বোর্ড ফেস করে আসতে পারে তাহলে কেন পাবে না অবশ্যই নিয়োগ পাবে। যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাল আর্টিকেল থাকে ভালো সিজিপিএ থাকে এবং যোগ্যতা থাকে তাহলে তারা কেন অবহেলিত হবে অবশ্যই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবে তারা।”

বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সন্তান হতেই পারে তাই বলে কি তিনি মানুষ নয় তার কি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মতো যোগ্যতা আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে তারপর নিয়োগ দেয়া হয়েছে এখানে যদি আমার সন্তান হতো তাহলে আমি নিয়োগ বোর্ডের থাকতে পারতাম না আপনারা আইন বিবেচনা করে দেখবেন আইনে কোথাও কোন উপাচার্যের সন্তানকে নিয়োগ দেয়ার জন্য নিষেধ করা নাই।

আরও পড়ুন