সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

রংপুরের পীরগাছায় নিজের স্ত্রী ফিরে না আসায় বিষপানের আগে ভিডিও করে মারা গেলেন আবু সালেহ ইমরোজ জনি (২৮)। রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রংপুর মেডিকেলে মারা যান তিনি। নিহত জনি উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের নিজতাজ গ্রামের মৃত আবু তৈয়বের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ছাওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন।

জানা যায়, চার বছর আগে জনির সাথে ছাওলা ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী (পূর্ব হাগুড়িয়া হাশিম) গ্রামের বাদল মিস্ত্রির মেয়ে সাথি বেগমের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে দুই বছরের রিশাদ নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সংসার জীবনে তাদের মাঝে মাঝে ঝগড়া ঝাটি লেগে থাকত। কয়েক দফা সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে তাদের সমঝোতা করা হয়েছিল। এক সপ্তাহ আগে তাদের মাঝে আবারও ঝগড়া বিবাদ হলে সাথি বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে সবার অজান্তে ছেলে রিশাদকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে জনি তার স্ত্রী সাথি বেগমকে কয়েক দফা তার বাড়িতে ফিরে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাথি বেগম সংসার করবেনা বলে তাকে জানান। উল্টো দেনমোহরের পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন সাথির পরিবার, এমন অভিযোগ করেন নিহত জনির বোন ঈশিতা বেগম। ঘটনার দিন শনিবার সকালে জনি পুনরায় তার শ্বশুর বাড়ি গিয়ে তার ছেলেকে দেখতে চাইলে সাথি বেগম ছেলেকে দেখায়নি। পরে অভিমান করে শশুর বাড়ির সামনে বিষপান করেন জনি। তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে আবু সালেহ ইমরোজ জনি মারা যান। বিষপানের আগে জনি তার মৃত্যুর জন্য তার শশুর, চাচা শশুর, সাথি ও সাথির বোন জামাইকে দায়ী করে যান।

নিহত জনির মা রাশেদা বেগম জানান, আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই। এ বিষয়ে সাথি বেগমের মোবাইলে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সরেস চন্দ্র বলেন, আমরা শুনেছি জনি রংপুর মেডিকেলে মারা গেছেন। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

আরও পড়ুন