সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

গোলাকার গাছ, চিকন ডাল, ন্যাড়া মাথায় ঝুলে থাকা ফুলগুলো এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে রেখেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। প্রেমিক-প্রেমিকা স্বামী-স্ত্রী কিংবা পরিবার-পরিজনসহ লোকারণ্য আজ শিমুলের বাগান।

চারপাশে ঝরা ফুলের ওপর হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে স্বর্গীয় লালগালিচায় বুঝি আপনি হেঁটে চলেছেন। প্রতিটি গাছই ফুলে ফুলে ফুলকানন। চোখ ঘুরালেই দেখা মিলছে ডালে-ডালে মধু খেতে আসা বুলবুলি, কাঠশালিক, হলদে পাখিরা। পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখর সারাবাগান। যেন এ এক রূপকথার রাজ্য।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এ শিমুল বাগানের অবস্থান উপজেলার সীমান্ত মেঘালয় পাহাড়ের পাদস্থিত যাদুকাটা নদী ও বারেক টিলা সংলগ্ন মানিগাঁও এলাকায়। বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বৃক্ষপ্রেমী মরহুম জয়নাল আবেদীন এই বাগানের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০২ সালে তিনি উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের পাশে যাদুকাটা নদী সংলগ্ন ৯৮ বিঘা অনাবাদী বালুকাময় জমিতে সারিবদ্ধভাবে ৩ হাজারের অধিক শিমুলচারা রোপণ করেন। এক যুগেরও বেশি সময় পর সেই শিমুল চারাগুলো এখন পুষ্প-পত্র-পল্লবে মুখরিত।

সরেজমিন দেখা গেছে, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে তাহিরপুরের শিমুল বাগান। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশ থেকে এ স্থানে আগমন ঘটছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। বাংলাদেশ ট্র্যাভেলার্স গ্রুপের সদস্য চঞ্চল ও ঢাকার চিড়িয়াখানা রোডের ব্যবসায়ী ইমন বলেন, শিমুল বাগানের পাশাপাশি যাদুকাটা নদী ও বারেক টিলার নান্দনিক সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে টানবে বারবার।

ভ্রমণপিপাসুদের খাবারের প্রয়োজনে শিমুল বাগানের ভিতরেই রয়েছে একটি স্বাস্থ্যকর ক্যান্টিন। এখানে যে কোনও খাবার সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সময় দিয়ে অর্ডার করতে হবে বলে জানালেন ক্যান্টিনের মালিক কোহিনুর।

বাগানটির প্রতিষ্ঠাতার ছেলে বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘শিমুল বাগানটি যুগ যুগ ধরে আমার বাবার স্মৃতি বহন করবে, এর চেয়ে বড় আর কী পাওয়ার আছে! আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা, পয়োনিষ্কাশন ও উন্নত খাবারসহ সকল সুবিধার ব্যবস্থা করেছি যাতে পর্যটকদের কোনও সমস্যা না হয়।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বলেন, ‘সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকলে আগামীতে তাহিরপুর পর্যটন সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

আরও পড়ুন