বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০২:১১ অপরাহ্ন

ভারতের কর্ণাটকের কিছু স্কুলের ছাত্রীদের সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে তাদের হিজাব খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মান্ডিয়া জেলার একটি সরকারি স্কুলের গেটে হিজাব পরা ছাত্রীদের থামাচ্ছেন একজন শিক্ষক। তাদের ‘ওটা সরাও, ওটা সরাও’ বলে নির্দেশ দিচ্ছেন।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে প্রবেশ বন্ধ করায় তর্ক করছেন। তুমুল বাগ-বিতণ্ডার পরে মেয়েরা হিজাব খুলে ফেলে করোনা প্রতিরোধী মাস্ক পরে স্কুলে প্রবেশ করেছে।

দুই ছাত্রীর বাবা স্কুলের গেটে শিক্ষকের সঙ্গে দীর্ঘ বিতর্কের পরে মেয়েদের হিজাব সরিয়ে স্কুলে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করে এএনআইকে এক অভিভাবক বলেন, শ্রেণিকক্ষে না পৌঁছানো পর্যন্ত ছাত্রীরা হিজাব পরে থাকবে এবং সেখানে পৌঁছে খুলে ফেলবে-এ অনুমতি দিতে শিক্ষকদের অনুরোধ করছিলেন, কিন্তু তারা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

উদুপি জেলার একটি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী এনডিটিভিকে বলেন, সে এবং তার এক সহপাঠীকে শ্রেণিকক্ষে যেতে হিজাব খুলে ফেলতে হয়েছে।

যতদিন পর্যন্ত হিজাব সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হচ্ছে, তত দিন স্কুল ও কলেজে হিজাবসহ যেকোনো ধরনের ধর্মীয় পোশাক পরা যাবে না। একই সঙ্গে রাজ্যটির স্কুল ও কলেজ খুলে দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১০ ফেব্রুয়ারি যতদিন পর্যন্ত হিজাব সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হচ্ছে, তত দিন স্কুল ও কলেজে হিজাবসহ যেকোনো ধরনের ধর্মীয় পোশাক পরা যাবে না বলে নির্দেশ দেন কর্ণাটকের হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, জানুয়ারির শেষের দিকে উদুপি সরকারি মহিলা কলেজে যখন ছয় ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাস করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন, তখন থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত।

এরই মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের কর্ণাটকের একটি কলেজের হিজাব পরহিত ছাত্রী মুসকানকে গেরুয়া ওড়না পরা একদল তরুণের বিরুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।

মুসকানের ওই মোকাবিলা করার ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, মান্ডিয়া কলেজে একদল গেরুয়া ওড়না পরা তরুণদের স্লোগান ও চিৎকারের মুখে পড়েন মুসকান, কিন্তু তিনি তাদের রুখে দাঁড়ান।

ওই তরুণরা যখন ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছিলেন, মুসকানও পাল্টা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে স্লোগান দেন। তারা যখন মুসকানের পিছু পিছু আসছিল তখনও মুসকান ‘আল্লাহু আকবার’… ‘আল্লাহু আকবার’ বলছিলেন। একপর্যায়ে ওই কলেজের কর্মকর্তারা তাকে তরুণদের কাছ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

আরও পড়ুন