শনিবার, ১৪ মে ২০২২, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

দেখতে সুন্দর খেতে মিষ্টি কুলবরই অথচ এর মধ্যে কোনো বিচি নেই-এমন বরই দেখে অবাক হচ্ছেন অনেকেই।

বিচি না থাকায় অনেকেরই এই বরই কেমন হবে তা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। তাই আগ্রহভরে এই বরই কিনছেন অনেকেই। বলতে গেলে মাগুরায় সাড়া ফেলেছে বিচিবিহীন (সিডলেস) কুল বরই।

প্রথমে ইউটিউবে এমন জাতের বরইয়ের সন্ধান পান মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের নাসির এগ্রোফার্ম অ‌্যান্ড নার্সারির মালিক নাসির আহম্মেদ। তারপর বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে এ কুল বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে এই প্রথম এধরনের কুলের আবাদ করে নাসির আহম্মেদ সফল হয়েছেন বলে-তিনি দাবি করেছেন।

সরেজমিনে বাগান ঘুরে দেখো গেছে, পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৬ সালে ফলের চাষ শুরু করেন নাসির আহম্মেদ। প্রথমে ৫ শতাংশ জমিতে কুল চাষ করলেও বর্তমানে তিনি ১০০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন।

নাসির এগ্রোফার্ম অ‌্যান্ড নার্সারির মালিক নাসির আহম্মেদ বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে ১০০ বিঘা জমিতে ২ হাজার বিচিহীন (সিডলেস) চারা রোপণ করি। চার-পাঁচ মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং প্রচুর পরিমাণে কুল ধরে।

এই কুলের সব থেকে থেকে বড় বৈশিষ্ঠ্র ভেতরে বিচি নেই। খেতে খুবই সুস্বাদু। অন্যান্য কুল থেকে এর বাজার চাহিদা খুব বেশি। বর্তমানে এই বাগান থেকে এ কুল সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত বরই সংগ্রহ চলবে।

স্থানীয় কিছু ব্যাপারীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঢাকা, কাওরান বাজার, নারায়ণগঞ্জ এমনকি সিলেট, চট্টগ্রামেও এখান থেকে কুল যাচ্ছে। যেহেতু এটা আনকমন সেহেতু আমি অন্যান্য কুল থেকে বাজার মূল্য বেশি পাচ্ছি। আশা করছি বেশ লাভবান হবো।’

নাসির আরও জানান, দুই একর জমির কুল ছয় লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। বাকি দুই একর জমির কুল পাইকারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কুল চারা করতে তার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। আমার থেকে শতাধিক লোক চারা নিয়ে বাগান করেছেন। চারা বিক্রি করেও বেশ লাভ হচ্ছেন।

মাগুরার ইছাখাদার ব্যাপারী লিয়াকত হোসেন জানান, প্রথমে দুই মণ বিচিবিহীন বরই ঢাকায় পাঠানো হয়। নতুন এই বরই দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। চাহিদা থাকায় তিনি আরও বরই ঢাকায় পাঠাবেন বলেও জানান।

স্থানীয় রাউতাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আল আমিন ও কৃষক আব্দুর রউফ জানান, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মত মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামে বানিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে বিচিহীন কুল।

এ কুল দেখতে অনেকাংশে লাল, কিছুটা সবুজ। দেশি কুলের থেকে এর স্বাদ খুবই মিষ্টি। সাধারণ দেশি কুলের ভেতরে আঁটি বা বিচি থাকে কিন্তু এ কুলের ভেতরে তা নেই। এটি বেশ সাড়া ফেলেছে।

ফল ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া জানান, তার থেকে কুল নিয়ে ১০০/১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। বাজারে এ কুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিক্রি করে আমরাও লাভবান হচ্ছি।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, প্রথমবারের মত মাগুরাতে এ কুলের চাষ হয়েছে। নাসির আহম্মেদকে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

এ কুলের জাতের চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ তার নার্সারি দেখতে আসেন। এ থেকে অনেকেই এই কুলের চারা লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।

তথ্যসূত্রঃ রাইজিং বিডি

আরও পড়ুন