সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া কারো জন্মই এ দেশে নয়, এজন্য বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি তাদের টান নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াই নয়, এরশাদের জন্মও তো বাংলাদেশে না। এরশাদও তো কুচ কুচ বিহারি। তারও তো জন্ম কুচবিহারে। একমাত্র আমার বাবাও ছিলেন এই দেশের, আমারও এই দেশের মাটিতেই জন্ম। কাজেই মাটির টান আলাদা। এখানে আমাদের নাড়ির টান। কাজেই এই দেশের মানুষের ভাগ্য গড়াটাই তো আমাদের লক্ষ্য। সেই জন্যই আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগের আদর্শই হচ্ছে জনগণের সেবা করা।

তিনি বলেন, এ দেশের প্রকৃতি, মানুষের উন্নয়ন আওয়ামী লীগ যতটা বুঝবে, অন্যরা তা বুঝবে না। বুঝবে কী করে? বিএনপির হৃদয়ে তো থাকে পাকিস্তান। তাদের মনেই আছে পাকিস্তান। দিল ম্যা হ্যায় প্যায়ারে পাকিস্তান। সারাক্ষণ গুণ গুণ করে ওই গানই গায়। এই যাদের মানসিকতা তাদের দ্বারা তো বাংলাদেশের ভালো চাইবে না এটা খুব স্বাভাবিক। এটা নিয়ে আপনাদের এত দুঃখ করার, চিন্তা করার কিছু নেই। আর ওদের কথা যত না বলা যায় ততই ভালো। কারণ ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাই বিশ্বাস করে না। বরং এই সবগুলিকে গাট্টি বাইন্ধা পাকিস্তানে পাঠাইয়া দিলে ভালো হয়। পাকিস্তানের এখন যে অবস্থা ওখানে থাকলেই তারা ভালো থাকবে। এখনও লাহোরে সোনার দোকানে খালেদা জিয়ার বড় ছবি আছে, যে ওই দোকানের সোনার গহনা তার খুব প্রিয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছিল অভিযোগ তুলে। নেতৃত্ব শূন্য একটা দল ইলেকশন করবে জনগণ ভোট দেবে কী দেখে? ওই চোর, ঠকবাজ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা, খুন, অস্ত্র চোরাকারবারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের এ দেশের জনগণ ভোট দেবে? এ দেশ চালানোর জন্য। তা তো দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ সচেতন। তারা জানে আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কা। আর নৌকার যে প্রয়োজন। এবার বন্যায়ও তো নৌকার জন্য হাহাকার। নৌকা ছাড়া তো গতি নেই বাংলাদেশে। এটাও মনে রাখতে হবে- আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা শুধু এনে দেয়নি, স্বাধীনতার সুফল এখন ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা কিন্তু এখানেই থামবে না। এই পানি আস্তে আস্তে নিচে যত নামতে থাকবে। ধীরে ধীরে একেকটা এলাকা প্লাবিত হতে থাকবে। কাজেই আমাদের সেই প্রস্তুতিও রাখতে হবে। এটা কিন্তু একেবারে ভাদ্র মাস পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলতে পারে এই বন্যা। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের কিন্তু প্রস্তুতি নিতে হবে।

আরও পড়ুন