শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

অবশেষে অপেক্ষার অবসান। দেশের অর্থায়নে নির্মিত সপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন থেকে টোল দেওয়া সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবেন সকল যানবাহন। আজ সেতু উদ্বোধনের সময় পদ্মার পাড়ে সারাদেশে থেকে যাওয়া লক্ষ মানুষ ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কেউ কেউ আবার আবেগে ভেঙ্গে পড়েন, শোনান কতটা খুশি হয়েছেন তারা। কেবল শুধু সাধারণ জনতা নয়, সেতু উদ্বোধনের সময় আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী নিজেও।

সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে থাকেন রাজনীতিবীদ, বিনোদন তারকা, অর্থনীতিবীসহ অনেকেই। আজ শনিবার (২৫ জুন) সোশ্যাল মিডিয়ায় সেতু নিয়ে উদ্বোধন দেন তারা। সেখানে তারা প্রকাশ করার চেষ্টা করেন এই সেতু নির্মাণের ফলে তারা কতটা উপকৃত হয়েছেন।

সেতু উদ্বোধনের সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তার স্টাটাস এ লিখেন, আমার টাকায় আমার সেতু শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু। এছাড়াও স্টাটাস দেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং সাংবাদিক হারুন উর রশিদসহ অনেকেই।

স্টাটাস দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি লিখেছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির অগ্রযাত্রায় এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এবং বাঙালি জাতির হার না মানার মূর্ত প্রতীক।

চিত্রনায়ক ওমর সানী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, আমার বাড়ি বরিশাল গৌরনদী, জন্ম কালীগঞ্জ জিনজিরা ঢাকা, শ্বশুর বাড়ি সাতক্ষীরা খুলনা। আলহামদুলিল্লাহ, পদ্মা সেতু আমার লাগবে আপনারও লাগবে, আমাদের গর্বের পদ্মা সেতু, আমাদের প্রথম অর্জন স্বাধীনতা, আর দ্বিতীয় অর্জন পদ্মা সেতু। সমালোচনা নয়, আসুন আমরা এক মুখে বলি আমাদের পদ্মা সেতু।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার নিজের ফেসবুকে লেখেন, পদ্মা সেতু শুধুমাত্র একটা সেতু নয়। এই সেতু মূলত বাংলাদেশের জনগণের সাহস ও সম্মানের প্রতীক। তাই দেশপ্রেমিক মাত্রই এই অর্জনে গর্বিত হওয়ার কথা! কে কোন দল বা কার রাজনীতি করেন সেটা বড় কথা নয়। সাবাস শেখের বেটি! সাবাস শেখ হাসিনা! সাবাস বাংলাদেশ!

চিত্রনায়িকা শাবনুর পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দুপুরে এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন: স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। স্থাপত্য শিল্পের এক শ্রেষ্ঠ স্থাপনা এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন। আমাদের গর্বের এই সেতু উদ্বোধন হওয়াতে আমিও আজ সবার সঙ্গে মহাসুখে উচ্ছ্বসিত, উদ্বেলিত ও আনন্দিত।

সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন বলেন, সেই এতোটুকু বয়স থেকে শুনতাম, পদ্মা সেতু হইলে… ,কিংবা’ইশ! যদি পদ্মা সেতুটা কখনো হইতো…! তারপর আব্বা, চাচা বা গ্রামের কতজন যে তুমুল আফসোসের স্বরে বলে যেতেন পদ্মা সেতু হলে কী কী হতে পারতো! ছোটবেলায় বহুবার বাপ-চাচাদের আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলতে শুনেছি, আরে, আমাগো বাড়ি কি ঢাকার তন দূরেনি?

পদ্মা বিরিজ হইলে বেইন্না বেলা বাড়ির তন গিয়া ঢাকায় অফিস কইরা আবার দিনে দিনে বাড়ি ফেরন যাইবো!’

তিনি আরও লেখেন, এই একটা সেতু নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, ঠিক কোন পর্যায়ের তা এ থেকেই স্পষ্ট। এই অনুভব মিলেমিশে একাকার হয়ে ছিল অসংখ্য মানুষের বুকের ভেতর!

আরও পড়ুন