মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০১:১২ অপরাহ্ন

নির্বাচনে অংশগ্রহণ এটা বিএনপির অধিকার বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুন) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইভিএম বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) অনেক কথাই বলে, শেষ পর্যন্ত আসল কথায় চলে আসে। আমি একটা কথা বলি, নির্বাচন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এটা বিএনপির অধিকার। সরকারের সুযোগ বিতরণ না। এটা একটা সুযোগ নয় যে, সরকার বিতরণ করবে। এটা হচ্ছে বিএনপির অধিকার। দল হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে নির্বাচনে তারা আসবে। আমরা এটাই বিশ্বাস করি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি- আমার বিশ্বাস যে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। আমরাও চাই বিএনপি আসুক। আমরাও চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন ইলেকশন। সে কারণে বিএনপির মত একটা বড় দল বাইরে থাকবে এটা আমরা চাই না। আমরা চাই তারা আসুক।

তিনি বলেন, দল হিসেবে আমরা বলেই যাচ্ছি। আমরা পদ্মা সেতুতেও দাওয়াত দিয়েছি। দেখেন আমাদের একটা পজেটিভ এটিচিউড আছে। সে কারণে আমরা তাই করি। তারা (বিএনপি) নিজেরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে। হয়তো শেষ বেলায়। ঘোলা করে খাবে আর কি।

তিনি আরো বলেন, দেখেন একটা কথা সবাই বলে, সরকারের অধীনে। আমি অবাক হয়ে শুনি ফখরুল সাহেব বলেন এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো না। ইলেকশন তো এই সরকারের অধীনে হবে না। ইলেকশন হবে ইলেকশন কমিশনের অধীনে। সরকার একটা কর্তৃত্বপূর্ণ স্বাধীন ভূমিকা ফর ক্রেডিবল, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন। যে যে সহযোগীতা, ফ্যাসিলিটিজ দরকার, সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস আমরা আগেও দিয়েছি, এখনো আমরা নির্বাচন কমিশনকে আশ্বাস দিয়েছি। আমরা সব ধরণের সহযোগীতা করবো।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কি করবেন, সেটি তার সিদ্ধান্তের ব্যাপার।তিনি হয়তো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করে থাকেন। এটা হয়তো নিয়ম। যা আমার কোনো এখতিয়ার নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তো রাজনৈতিক সংলাপে ডাকছে, বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আমরা আসবো। আর এ ব্যাপারে আমাদের স্ট্যান্ড ক্লিয়ার অ্যান্ড লাউডার আমরা গতবার যেটা বলেছি। একই দাবি আমরা পুনরাবৃত্তি করছি। এই প্রস্তাবগুলো আমরা চাই যে, এই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করুক এবং ইভিএমের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার এবং স্পষ্ট। মন থেকে চাই, চেতনা থেকে চাই। ৩০০ আসনে ইভিএম হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সাপোর্ট করি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখানে আসছে। আমার মনে হয় অধিকাংশই ইভিএমের পক্ষে বলেছেন। আজকে অনেকগুলো দল এসেছে। আমরা সবার কথা শুনেছি। ইভিএম নিয়ে বিরুদ্ধেও বলেছেন দুয়েকজন। এটা তো গণতন্ত্র। বিউটি অব ডেমোক্রেসি। বিরুদ্ধে তো বলবেনই। ভিন্নমত থাকতেই পারে। সেটা তো কোনো অসুবিধা নেই।

৩০০ আসনে নির্বাচন করতে কি ইসি সক্ষম? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্যাট ইজ দ্যা ডিসিশন অব ইলেকশন কমিশন। এটা তাদের এখতিয়ার।

আপনারা কি সব আসনে ইভিএম চান? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চাই। আমরা যখন দেখেছি একটা ইউনিয়নের ইলেকশনে রাজশাহীর একটা ইউনিয়ন একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ইউনিয়ন, সেখানে দিনের আলোও ঠিক মতো যায় না। ঠিক এই রকম একটা জায়গা। তো ইভিএমে ইলেকশন হয়েছে। অংশগ্রহণ ছিলো বিশ্বাসযোগ্য না এ রকম। প্রচুর উপস্থিতি এবং মহিলারা পর্যন্ত লম্বা লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছে। কাজেই ইভিএম অজনপ্রিয় এ কথা বলার আর এখন কোনো প্রয়োজন নেই।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার, আমরা যেভাবে পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হয়, বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার সরকার তার সেটাই অনুসরণ করবে। দেখুন নির্বাচন ব্যবস্থার আইনের মাধ্যমে কমিশন গঠন। এখানে একটা পজেটিভ চ্যাঞ্জ হয়েছে। এটা আমরা আরো উন্নত করতে চাই, এই নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে। এটা আমরা ইঙ্গিত করে গেলাম। আমরা আরো উন্নত করতে চাই।

আজকে ১৩ রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠকে করতে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে, দুই ধাপে ২৬ রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি। গত ১৯ ও ২১ জুন দুই ধাপে ২৬টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের ইভিএম যাচাই বিষয়ক সভা করেছে ইসি। এই দুই ধাপে ১৮টি দল উপস্থিত থাকলেও সাড়া দেয়নি বিএনপিসহ আটটি দল।

আজ যেসব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।

আরও পড়ুন