বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

একই পরিবারে অনেক মেধাবি সন্তান থাকতে পারে। তবে পরিবারের সব মেধাবি সন্তান একসাথে দেশের নামকরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে এমন নজির শোনা যায় না। কিন্তু স্কুলশিক্ষক ছায়েদ উল্লাহর পাঁচ ছেলে মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে এমন ব্যতিক্রম একটি নজির স্থাপন করেছেন। মেধাবি ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার পিছনে নিজের সব সম্পত্তি ব্যয় করেও খুশি ওই গ্রামের শিক্ষক ছায়েদ ও তার স্ত্রী শামীমা।

সর্বশেষ ওই শিক্ষক বাবার একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ নিয়ে একে একে শিক্ষক বাবার মোট পাঁচ ছেলে মেয়েই মেধার জোরে দেশের শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যাপিঠে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে আলোচনায় এসেছেন।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ছায়েদ উল্লাহ ও শামীমা আক্তার দম্পতি এখন পাঁচ মেধাবী সন্তানের গর্বিত পিতা-মাতা। এমন মেধাবি সন্তানদের নিয়ে গ্রামবাসীরাও খুশি। শিক্ষক ছায়েদ উল্লাহ নোয়াখালীর সুবর্ণচরের দক্ষিণ ওয়াপদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকতা করে বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। নিজের মেধাবী সন্তানদের নিয়ে কথা হয় এ গর্বিত বাবার সাথে। শিক্ষকতার সৎ উপার্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করতে পেরেছেন এতে খুশি তিনি।

তিনি জানান, শুরুটা হয় ২০০৭ সালে। তার বড় ছেলে শামসুল আলম দিপু ২০০৭-০৮ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ভালো ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে যোগ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকে। বর্তমানে তিনি সরকারের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

দ্বিতীয় ছেলে শাজাহান সিরাজ আল মামুন ২০১০-১১ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৬ সালে কৃতিত্বের সহিত লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে ছেলে মামুন। বর্তমানে শাজাহান সিরাজ আল মামুন কর্মসংস্থান ব্যাংকের লক্ষ্মীপুর শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

তৃতীয় ছেলে আশরাফুল ইসলাম শহীদ ২০১১- ১২ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১৭ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সহিত প্রথম শ্রেণিতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। আশরাফুল ইসলাম শহীদ বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

চতুর্থ ছেলে শরীফুল ইসলাম বিজয় ২০১৬-১৭ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন। আর চলতি বছর শিক্ষক ছায়েদ উল্লাহর একমাত্র মেয়ে ২০২১-২২ সেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৫৯৯ তম হয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হন।

শিক্ষক ছায়েদ উল্লাহ জানান, আমার ছোট মেয়ে একজন জজ হতে চায়। আমি দীর্ঘ ৩০ বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। আমি অন্যের ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেছি আবার আমার ছেলে মেয়েদেরকে সুশিক্ষিত করার জন্য সর্বদাই সচেষ্ট ছিলাম। আমার সব সন্তান এখন দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র।

নিজ উপজেলার এমন মেধাবি পরিবারের বিষয়ে কমলনগরের সাংবাদিক মো. ইব্রাহীম জানান, ছায়েদ উল্লাহ স্যারের সব ছেলে মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার চান্স পেয়েছে এটা শুনেই ভালো লাগছে। তারা কমলনগরাবাসীকে সম্মানিত করেছে। অন্যদিকে উদয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আমিন জানান, তাদের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসসহ ছায়েদ স্যারের সব ছেলে মেয়ে অত্যন্ত মেধাবি ও ভদ্র। এমন শিক্ষার্থী পাওয়া বর্তমানে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

এদিকে একই পরিবারের পাঁচ ভাই-বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার খবরে সাধারণ ও শিক্ষিত সমাজ এই সফলতার জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

আরও পড়ুন