বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

জমি লিখে না দেয়ায় নি’র্যাতন করে বিধবা বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন ছেলে মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী শাম্মী আকতার। নি’র্যাতিত ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মর্জিনা বেওয়া গত ৩ বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এ কাজের প্রতিবাদ করায় মি’থ্যা মাম’লা দিয়ে ভুক্তভোগী মা ও তিন বোনকে হ’য়রানি করছেন ছেলের বউ শাম্মী। বৃদ্ধা মায়ের অভিযোগ, ছেলে ও ছেলের বউ তাকে হ’ত্যার হু’মকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও প্র’তিকার মেলেনি।

এ ঘটনাটি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফ আল গ্রামের। মর্জিনা বেওয়া ওই গ্রামের মৃ’ত্যু ইউনুস আলী সরকারের স্ত্রী। ৯ বছর আগে মারা যাওয়া ইউনুস আলীর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ছেলে ও পুত্রবধূর নি’র্যাতনের এমন ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষু’ব্ধ হলেও ভ’য়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় বৃদ্ধা মা মর্জিনা বেওয়ার সঙ্গে। তার অ’ভিযোগ, স্বামীর রেখে যাওয়া বসতবাড়িতে দুই ছেলের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। এরপর দুই ছেলে ও স্ত্রী মিলে নানা কারণে তার ওপর নি’র্যাতন চালায়। পরবর্তীতে তারা বিধবা মর্জিনাকে এক পর্যায়ে মা’রপিট করে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেন।

পরবর্তীতে বসতভিটার জমি নিজের নামে লিখে দিতে মাকে চাপ দিতে থাকে ছোট ছেলে মশিউর ও তার স্ত্রী শাম্মী আকতার। কিন্তু রাজি না হলে প্রায়ই তারা মা’রধরসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে গ্রাম্য শালিসে বসতভিটার পাকাবাড়িসহ ৮ শতাংশ জমি দুই ছেলেকে এবং ফাঁকা ৮ শতাংশ জমি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় মর্জিনাসহ তিন মেয়েকে। ওই জমিতে বসবাসের জন্য টিনসেডের ঘর তোলা হলেও তাতে বেশি দিন থাকা হয়নি মর্জিনার। সম্পদের লোভে মশিউর ও তার স্ত্রী ওই ঘরের তালা ভে’ঙে সমস্ত আসবাবপত্রসহ ঘরটি ভা’ঙচুর করে।

বৃদ্ধা মা মর্জিনা বেওয়া আরও বলেন, আমাকে সব সময় ওরা (ছেলে ও ছেলের বউ) মা’রপিট করে। আমাকে দেখলেই তারা বাঁশ-লাঠি কখনো ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে কু’পিয়ে হ’ত্যা’র হু’মকি দেয়। প্রা’ণভ’য়ে মেয়েদের বাড়ি এবং আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আমার কেটে গেছে ৩ বছর। সর্বশেষ গত ১৮ জুন ছেলে-ছেলের বউ আমার মাথা গোজার ঠাঁই ভা’ঙচুর করা ঘরটিসহ জমি দখলের চেষ্টা করে। কেউ বাধা দিতে আসলে তাকেও গা’লিগা’লাজ ও হ’ত্যার ভ’য় দেখায়। পুলি’শকে জানালে তারাও অসহযোগিতা করেন। এ সময় কান্না জড়িত কণ্ঠে মর্জিনা বেওয়া এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং অভিযুক্ত ছেলেসহ বউয়ের দৃষ্টান্ত শা’স্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমানসহ একাধিক নারী ও পুরুষের অভিযোগ, ছেলে ও ছেলের বউয়ের নি’র্যাতনের ঘটনায় ৩ বছর ধরে বাড়ি ছাড়া বৃদ্ধা মা মর্জিনা। প্রতিকার চেয়ে অনেকের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন তিনি। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলেই ছেলে এবং তার বউ গ্রামের লোকজনকে গা’লিগালা’জসহ মাম’লার জড়ানোর ভ’য়ভী’তি দেখায়। দিনদিন তাদের বে’প’রোয়া কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে এলাকার শা’ন্তি ন’ষ্ট হচ্ছে।

তবে অভিযোগে বিষয়ে জানতে বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী শাম্মী আকতারকে। তবে মুঠোফোনে কথা হলে মশিউরের স্ত্রী শাম্মী আকতার অভি’যোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে মা’রধর করাসহ মা’মলা দিয়ে হ’য়রানি করছেন শাশুড়ি। শাশুড়িকে মা’রধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া এবং মা’মলা দিয়ে হয়’রানির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, এই ঘটনায় বৃদ্ধার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার জানান, এর আগে ছেলের বউকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মূলত অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি প্রক্রিয়া নেয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় পুলিশের যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। নতুন কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন