বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:২৮ অপরাহ্ন

দিনশেষে সবাইকেই ঈশ্বরের স্মরাণাপন্ন হতে হয়। আর এজন্য প্রয়োজন হয় একটি নির্দিষ্ট জয়াগার। যা প্রার্থনা কক্ষ নামে পরিচিত। দেরিতে হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা হচ্ছে প্রার্থনা কক্ষ। শামসুন্নাহার হলের মাধ্যমে এই শুরুটায়, শিক্ষার্থীরা সাধুবাদের সাথে জানিয়েছে স্বস্তিও।

কিছুটা সময় সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে চান বিশ্বাসীরা। সব র্ধমের ক্ষেত্রেই সেটা অনিবার্য সত্য। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের আবাসিক হলগুলোতে মুসলিম শির্ক্ষাথীদের নামায ঘরের পাশাপাশি প্রার্থনা কক্ষ খোলা হচ্ছে। শুরুটা শামসুন্নাহার হল দিয়ে।

এ প্রসঙ্গে শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক লাফিফা জামাল বললেন, স্ট্যান্ডিং কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয় যে ছাত্রী হলগুলোতে মুসলিম ব্যতিত অন্যান্য ধর্মের যে ছাত্রীরা আছেন তাদের প্রার্থনার জন্য যে একটা ব্যবস্থা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় একটা অসামপ্রদায়িক জায়গা, এখানে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের সমান অধিকার আছে। কাজেই এটা খুবই ভাল একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো করে সামনে এগিয়ে আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

যারা শুধু মনে মনে নিজের স্রষ্টার স্মরণ করতেন, তাদের কাছে এই উদ্যাগটা কতোটা স্বস্তিদায়ক? শিক্ষার্থীরা বললেন, এটা নিঃসন্দেহে একটা বিশাল প্রাপ্তি। ছোট থেকে বড় হওয়া অবধি আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বের হতাম এই সুযোগটা এতোদিন ছিল না, এখন আছে। ঈশ্বরের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়াটা নিঃসন্দেহে অনেক বড় অর্জন।

র্প্রাথনা কক্ষে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মানুসারী শির্ক্ষাথীরা সব সময় র্প্রাথনা করতে পারেন। শিক্ষা জীবনের অনেকটা পার করে ফেলেছেন যারা কোনো র্প্রাথনা কক্ষ ছাড়াই, তাদের কাছে এই উদ্যাগটা বিশাল প্রাপ্তির।

এক শিক্ষার্থী বললেন, ম্যামরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। রুমে উপাসনা করলে উপাসনালয়ে পূজার যে অনুভূতি তা আসতো না আগে। মুসলিম ছাত্রীরা নামাজের জায়গা পেতো কিন্তু আমাদের উপাসনার কোনো জায়গা ছিল না, আমাদের উপাসনারও তো প্রয়োজন আছে। যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, শির্ক্ষাথীদের মুক্ত চিন্তা চর্চার জায়গা। তাই এখানে সংখ্যা গরিষ্ঠ হোক কিংবা সংখ্যা লঘু; ছেলে হোক মেয়ে হোক, যে যেটা বিশ্বাস করেন, তার তা চর্চার অধিকার নিশ্চিত করতে হয়।

আরও পড়ুন