বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:০৩ অপরাহ্ন

ব্লাড সুগারের সমস্যা আজ ঘরে ঘরে। এমনিতে অসুস্থতা খুব ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা এই রোগে তখনই হয় যখন আপনার ব্লাড সুগার লেভেল অত্যধিক বেড়ে যায়। কিন্তু একইসঙ্গে একটু চেষ্টা করলে ও নিয়মিত কিছু অভ্যাস অনুশীলন করলে এই রোগ কন্ট্রোলে বা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কঠিনও কিন্তু নয়।

এই রোগে শরীরে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না বা তৈরি হয় না। তার ফলেই অনেক সময় সুগার কম হতে শুরু করে। জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন করেই ভালো থাকা যায়। এই প্রতিবেদনে জেনে নিন তেমনই কিছু পরিবর্তন সম্পর্কে।

সুগার একটি গুরুতর রোগ। কিন্তু দেখা যায় যে বেশিরভাগ মানুষই এই রোগটি সম্পর্কে ততটা ওয়াকিবহাল নয়। এমনকী শরীরে যে রোগ বাসা বেঁধেছে, এই বিষয়টাও অনেকেই খবর রাখেন না। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হয়ে যেতে হবে।

আজ এই দেশে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে গিয়েছে ডায়াবিটিস রোগী। তাই প্রতিটি মানুষকে এই অসুখটি নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই রোগ হওয়ার পরও মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখা যায়। তাই চোখ, স্নায়ু, কিডনির ক্ষতি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞের মতে এই রোগটিকে প্রথম থেকেই ভালোমতো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সুগার কিছুটা বেশি হলে প্রথমের কয়েক বছর জীবনযাত্রার পরিবর্তন করেই ভালো থাকা যায়।

​১. কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম :ডায়াবেটিস লক্ষণ যুক্ত বা প্রবণতা-যুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষত, ভাত, রুটির মতো সরল কার্ব থেকে দূরে থাকুন। এগুলি রক্তে দ্রুত সুগার বাড়ায়। এর পরিবর্তে খেতে হবে জটিল কার্ব যেমন ওটস, ডালিয়া ইত্যাদি।

২. মিষ্টি খাওয়া এড়ান : ব্লাড সুগার লেভেল বাড়তে শুরু করলেই রোগীদের মিষ্টি খাওয়া একবারেই বন্ধ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে চেষ্টা করতে হবে যাতে মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া যায়। অনেকে ভাবেন গুড় বা মধু খেলে বোধহয় সমস্যা নেই। তবে বিষয়টা একবারেই তা নয়। এগুলি খেলেও কিন্তু আপনার সুগার বাড়বেই।

​৩. হাঁটা এক্ষেত্রে কিন্তু রোগীদের জন্য অবশ্যই নিয়মিত এক্সারসাইজ করা প্রয়োজন। ব্যায়াম করলে শরীরে ক্যালোরি বার্ন হয়। অনেকে এক্সারসাইজ করতে অনীহা দেখান। সেক্ষেত্রে তাঁরা ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম বা নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস রাখতে পারেন। দিনে অন্তত ৪৫ মিনিট হাঁটতে হবে।

৪. নিয়মিতই পরীক্ষা করান : নিয়মিত চেক-আপ মাস্ট। ডায়াবিটিস রোগীদের নিজেদের সুগার লেভেলের দিকে নজর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তত একবার সুগার পরীক্ষা করতে হবে। রিপোর্ট দেখে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি বদলাতে হবে।

​৫. অন্যান্য রোগ থাকলে কন্ট্রোল না করলে কিন্তু ডায়াবিটিস একটি ঘাতক রোগ হয়ে ওঠে। তাই সতর্ক হন শুরু থেকেই। এই রোগটির পাশাপাশি প্রেশার, কোলেস্টেরল, হার্টের অসুখ থাকলে আপনাকে আরও বেশি সতর্ক হয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন। এই রোগগুলি নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। তবেই ভালো থাকবেন। নইলে সমস্যা আরও বাড়বে বই কমবে না।

উপরোক্ত অভ্যাসগুলো নিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। বিশেষত প্রথম থেকেই সুগার লেভেল অনেকটা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে ওষুধও খেতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে।

আরও পড়ুন