বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

চলতি বছরে টিকটক করতে গিয়ে ১০ জন তরুণ-তরুণী প্রাণ হারিয়েছে। বুধবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত ২ মার্চ রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলায় হোসেন (১৬) নামে এক কিশোর রেল ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে টিকটক বানাতে গিয়ে রেলের নিচে কাটা পড়ে মারা যায়। ৮ মে নড়াইলের কালিয়ায় টিকটক করতে বাধা দেওয়ায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করে সুমি আক্তার (১৯)।

১৬ মে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার শহরের লাল ব্রিজের অদূরে হৃদয় (১৫) নামে এক কিশোর টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে। ২২ মে নীলফামারীর সৈয়দপুরে টিকটক করতে গিয়ে নদীতে ডুবে মৃত্যু হয় মুস্তাকিম ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরের। ৮ জুলাই নোয়াখালীর চাটখিলে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে গেলে সানজিদা আক্তার নামে (১১) এক শিশুর মৃত্যু হয়। ১১ জুলাই কুমিল্লায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে টিকটক করতে গিয়ে পা পিছলে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া গত বছর ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে নির্মানাধীন তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে অনিল (১৪) নামে এক কিশোর এর মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে টিকটক ভিডিও আপলোডকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত খুন হয়।

শুধু তাই নয়, টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনে তরুণী পাচার, টিকটকের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ এবং টিকটকের কারণে পাড়া মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর-কিশোরী। সবার মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় না হওয়া এবং প্রকাশ না পাওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় তুলে ধরা হচ্ছে না।

সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, টিকটকের কারণে এসব মৃত্যু হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কেউ মামলা করেননি। টিকটক বাংলাদেশের লাইসেন্সধারী কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। সরকার এর থেকে কোনো রাজস্বও পায় না। তাই আমাদের দাবি উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে টিকটকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন