রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১:২৪ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কেরেলকাতা গ্রামে ভুয়া প্রাণী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় আট লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু মা’রা গেছে। গরুটি মা’রা যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন দরিদ্র কৃষক আবদুল গাফফার। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষক আব্দুল গাফফার চার বছর ধরে একটি হলিস্টিয়ান জাতের গরু পালন করেন। ঢাকার কোরবানির হাটে গরুটির দাম আট লাখ টাকা হাঁকানো হলেও তিনি বিক্রি করেননি। কাঙ্ক্ষিত ১২ লাখ টাকা দাম না পাওয়ায় গরুটি বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। তবে গরুটি কোরবানির হাটে অসুস্থ হলে নিজেকে রেজিস্টার্ড প্রাণী চিকিৎসক দাবি করা কেরেলকাতা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন ২৫-২৬ দিন চিকিৎসা করান।

পরে অবস্থার উন্নতি না হলে ইব্রাহিম গরুর মালিককে জানান, কলারোয়ায় মাজুবর নামের একজন ডিগ্রিধারী প্রাণী চিকিৎসক আছেন। এরপর ওই মাজুবরের ‘অপচিকিৎসায়’ গত ৬ আগস্ট গরুটি মা’রা যায়।

জানা গেছে, নিজেকে বড় ডিগ্রিধারী প্রাণী চিকিৎসক পরিচয় দানকারী মাজুবর মূলত কলারোয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কম্পাউন্ডার। তিনি ইতোপূর্বে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিজেকে বড় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া উপজেলার প্রাণী চিকিৎসকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখানোর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষক আবদুল গাফফার বলেন, ‘আমার গরু অসুস্থ হলে আমি ইব্রাহিম হোসেনকে ডাকি, তিনিই আমাকে বড় ডাক্তার মাজুবর সাহেবের কথা বলেন। তাকে ডেকে চিকিৎসা দেন। ৫-৭টি ইনজেকশন পুশ করেন। আরও কিছু পাউডার দেন। পরে গরুটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে অসংখ্যবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেনি। আমি দরিদ্র কৃষক, এর বিচার চাই।’

অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘আমি ওই গরু চিকিৎসা করিনি। তারা আমাকে চিকিৎসার জন্য বলেছিল।’ তবে কম্পাউন্ডার মাজুবরকে বড় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য ডাকার কথা শিকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কম্পাউন্ডার মাজুবর রহমান প্রথমে ওই ষাঁড়টিকে চিকিৎসার কথা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। তবে বড় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখতে প্রভাবিত করার কথা অস্বীকার করেন।

কলারোয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. অমল কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়ে তাকে শোকজ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি। তবে আমি জেনেছি, প্রাথমিক চিকিৎসায় গরুটি সুস্থ ছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর চিকিৎসা করানো হয়নি।’

একজন কম্পাউন্ডার চিকিৎসা দিতে পারেন কি না- জবাবে তিনি বলেন, ‘ভেটেরিনারি সার্জন ছাড়া আর কারও চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষমতা নেই।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন