বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:১০ অপরাহ্ন

আমি স্রেফ আমাদের এখানকার অবস্থা বলি। যে বার্গারের দাম আগে ছিল এক ইউরো, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ১০০ টাকা। সেটি এখন বেড়ে হয়েছে এক ইউরো ৭৫ সেন্ট। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় একশো পঁচাত্তর টাকা। মানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে!

বাজারে গেলে আগে প্রতি সপ্তাহে আমার ৪০ ইউরো’র মত বাজার করলেই চলত। অর্থাৎ সপ্তাহে চার হাজার টাকা খরচ হলেই চাল-ডাল, আলু-পেয়াজ এইসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলা যেত। এখন সেই একই বাজার করতে গেলে দেখছি সপ্তাহে আমার খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ৭৫ ইউরোর মত। অর্থাৎ সপ্তাহে আমাকে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। খাবার তেল থেকে শুরু করে সকল কিছুর দাম প্রায় ডাবল হয়ে গিয়েছে আমাদের এখানে!

প্রতি মাসের ইউটিলিটি খরচ, মানে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের বিল প্রায় দেড় গুণ বেড়ে গিয়েছে। গাড়ি’র তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পে গেলে নিজেকে দরিদ্র মনে হয়। শুধু দরিদ্র না; মনে হয়- মাসে তো এক টাকাও সেভ করতে পারছি না! সামনে যদি কোন বিপদ হয়, তাহলে কি হবে।

আমি কিন্তু এই দেশে দরিদ্র মানুষ নই। সাধারণ মধ্যবিত্ত বলতে পারেন। যে নয়টা-পাঁচটা চাকরি করছে। যার জীবন অতি সাধারণ ভাবে কেটে যাচ্ছিল কোন কিছু না ভেবেই। এখন সেই আমাকেও ভাবতে হচ্ছে- কিভাবে খরচ কমাতে হবে। আগে রেস্তরাঁয় গিয়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনবার খেতাম। এখন আর তেমন যাওয়াই হচ্ছে না! মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে আশপাশের দেশে ঘুরতে চলে যেতাম। সেটা আর কল্পনাও করতে পারছি না। এভাবে চেষ্টা করছি নিজের খরচ কমানোর।

আজ শুনতে পেলাম বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এছাড়া ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গুলো আপাত বন্ধ থাকবে। পেট্রোল পাম্প গুলো সপ্তাহে এক দিন বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া অফিসের সময়ও কমিয়ে আনার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। আমার মনে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত গুলো ভালো সিদ্ধান্ত। বিপদে পড়ার আগে থেকেই চিন্তা করতে হবে। (দুর্নীতির বিষয় গুলো এই আলোচনায় আনছি না। সেটি ভিন্ন আলোচনা। এই নিয়ে হাজারো লেখা আমি নিজেই লিখেছি। এই লেখায় আমি স্রেফ বিশ্ব পরিস্থিতি বুঝাতে চাইছি।)

তবে ১৮ বছর বিদেশে থাকলেও আমি তো বাংলাদেশি। আমি জানি আমরা বাংলাদেশিরা কেমন। আমরা এরপরও মহা আনন্দে খরচ করতে থাকবো। ভাইরে, পুরো পৃথিবী একটা ভয়ংকর সময় পার করছে। পৃথিবীর সব চাইতে ধনী দেশের মানুষ গুলোকেও খরচ কমানোর কথা ভাবতে হচ্ছে। জীবন যাত্রার মানও অনেক নিচে নেমে গিয়েছে। সবাই চেষ্টা করছে এইসবের সাথে মানিয়ে নিয়ে নিজের খরচ যতটা সম্ভব কমানোর। আপনিও চেষ্টা করুন খরচ একদম কমিয়ে যতটা সম্ভব সেভ করার। অন্য কাউকে দোষ দেয়ার আগে নিজের দায়িত্ব টুকু পালন করুন। এতে দিন শেষে আর কারো না, আপনারই ফায়দা হবে। কারন যে টাকা টুকু সেভ করবেন, সেটা আপনারই থাকবে।

এখন থেকেই সতর্ক হন। মনে রাখবেন- আমরা এখন এমন একটা পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে উত্তর গোলার্ধের ছোট একটা দেশেও যদি কোন সমস্যা হয়; সেই সমস্যার মাসুল দক্ষিণ গোলার্ধের আরেকটা দেশকেও দিতে হবে। এই থেকে বের হবার উপায় কোন “বিজ্ঞানী” কিংবা “অর্থনীতিবিদ” এখনো দিতে পারেনি। তাই সতর্ক হন।

লেখক: ড. আমিনুল ইসলাম।

সিনিয়র লেকচারার ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড ইনোভেশন বিভাগ। এস্তনিয়ান এন্টারপ্রেনারশিপ ইউনিভার্সিটি।

আরও পড়ুন