বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু


বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে আবেদনকারীর খরচ ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। বর্তমানে সাধারণ ভিজিটর ভিসা, অর্থাৎ ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও ১৮৫ ডলার আবেদন ফি প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু হওয়ায় মোট আর্থিক দায় অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভিসা বন্ডের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ভিসা কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করতে পারেন। তবে ভিসা বন্ড দিতে হবে শুধু তখনই, যখন কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে এ নির্দেশ দেবেন। শুধু নিজের ইচ্ছায় বন্ডের টাকা জমা দিলে তা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

এই বন্ড সাধারণ ভিসা ফি নয়। ভিসা অনুমোদনের পর নির্ধারিত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বন্ডের টাকা যিনি জমা দেবেন, শর্ত পূরণ হলে ফেরতও তার কাছেই দেওয়া হবে।

ভিসা আবেদন ফি অবশ্য ফেরতযোগ্য নয়। অর্থাৎ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি ফেরত পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বি-১/বি-২ ছাড়াও এফ-১ শিক্ষার্থী, এম-১ ভোকেশনাল স্টুডেন্ট, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরসহ বেশ কয়েকটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার।

কাজের জন্য এইচ, এল, ও, পি, কিউ ও আর ক্যাটাগরির মতো পিটিশনভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। ই-ভিসার ক্ষেত্রে ফি ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য কে-ভিসার আবেদন ফি ২৬৫ ডলার।

ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে খরচের কাঠামো আলাদা। পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩৪৫ ডলার। অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ফি ২০৫ ডলার।

এর বাইরে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পিটিশন, অর্থাৎ আই-১৩০ জমা দেওয়ার জন্য ৬৭৫ ডলার ফি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার জন্য ১২০ ডলার ফিও প্রযোজ্য হতে পারে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর গ্রিন কার্ড তৈরির জন্য ইউএসসিআইএস ইমিগ্র্যান্ট ফিও দিতে হয়।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিসার মেয়াদ ও প্রবেশের সংখ্যা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ রিসিপ্রোসিটি তালিকায় বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২ ভিসার জন্য কোনো আলাদা রিসিপ্রোসিটি ফি দেখানো হয়নি। একই তালিকায় এসব ভিসার মেয়াদ তিন মাস এবং প্রবেশের সংখ্যা একবার উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন থাকা যাবে, সেটি ভিসার মেয়াদের সঙ্গে এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তা অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করেন। তাই ভিসার গায়ে থাকা মেয়াদ দেখে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়।

আরেকটি বিষয় হলো, ২০২৫ সালে আইন করে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের জন্য ২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টেগ্রিটি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, এই ফি ভিসা ইস্যুর সময় নেওয়া হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে সমন্বয় করা যেতে পারে। তবে এই ফি কীভাবে এবং কোথায় সংগ্রহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রয়োজনীয় ফি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দিতে হয় এবং ভিসা না পেলে আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়। ভিসার ধরন অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করা জরুরি।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে শুধু ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি হিসাব করলেই হবে না। বিশেষ করে বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা বন্ডের সম্ভাব্য অর্থ, ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ এবং প্রযোজ্য অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।



Source link