কুমিল্লা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
RSS
শিরোনাম
নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন, এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের আভাস! প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ গোবিন্দপুর গ্রামে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু এবার একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড জানেন মানিকগঞ্জে হঠাৎ ডিম ও মুরগির দাম কত হলো? যে দলের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে লিওনেল মেসির ধানক্ষেতে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আওয়ামী লীগ নেতার আগামীকাল টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন, এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের আভাস! প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ গোবিন্দপুর গ্রামে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু এবার একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড জানেন মানিকগঞ্জে হঠাৎ ডিম ও মুরগির দাম কত হলো? যে দলের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে লিওনেল মেসির ধানক্ষেতে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আওয়ামী লীগ নেতার আগামীকাল টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
জীবনযাপন

জানেন মানিকগঞ্জে হঠাৎ ডিম ও মুরগির দাম কত হলো?

ইডিটর | প্রকাশিত হয়েছে 1 hour আগে


জানেন মানিকগঞ্জে হঠাৎ ডিম ও মুরগির দাম কত হলো?

জানেন মানিকগঞ্জে হঠাৎ ডিম ও মুরগির দাম কত হলো?

এমটিনিউজ ডেস্ক : মাসের শেষ সময়ে মানিকগঞ্জের কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে। গত সাত দিনের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। কমেছে সাদা ও লাল ডিমের দামও। মাছের বাজারে রুই ও পাঙ্গাসের দাম কিছুটা কমলেও গরু, খাসি ও মুরগির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা কমে গেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। দোকানে দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডিম। তবে ক্রেতা কম থাকায় অনেক ব্যবসায়ীকে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। বিক্রেতাদের দাবি, মাসের শেষ দিকে মানুষের হাতে টাকা কম থাকায় বাজারে কেনাকাটা কমে গেছে। মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর আবার বেচাকেনা বাড়ে।

বাজারে বর্তমানে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, মূলা চারটি ৩০ টাকা, ধনেপাতা প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, পালংশাকের আঁটি ২০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, লেবু প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং কাঁচকলা চারটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত সাত দিনের ব্যবধানে ফুলকপির দাম কেজিতে ৪০ টাকা, বাঁধাকপির দাম ২০ টাকা, ধনেপাতার দাম ৪০ টাকা, করলার দাম ২০ টাকা, টমেটোর দাম ৬০ টাকা, পটলের দাম ২০ টাকা এবং বেগুনের দাম ৩০ টাকা কমেছে। লাউয়ের দাম পিস প্রতি ১০ টাকা ও মূলার দাম চারটিতে ১০ টাকা কমেছে। অন্যদিকে শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। আলু, ঢেঁড়স, কাঁচামরিচ, গাজর ও লালশাকের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

কাঁচামালের খুচরা ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, ‘মাসের শেষ সময়ে কেনাবেচা কম হয়। এহন সকাল সাড়ে ১০টা বাজে। এখনও তেমন বেচাবিক্রি করতে পারিনি। মাসের শুরুতে এই সময়ের মধ্যে অনেক ভালো বেচা বিক্রি হয়। এখন মালের দামও কিছুটা কম কিন্তু কাস্টমার নাই।’

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সাত দিনে এ দুই ধরনের মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পূজার আগে খাসির মাংসের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা। পূজা শুরু হওয়ার পর থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাভেল পবন গোস্ত ভাণ্ডারের বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, পূজার আগে খাসির মাংসের দাম ১০০ টাকা কম ছিল, ১২০০ টাকা কেজি বিক্রি হতো। পূজা শুরু হওয়ার পর থেকেই ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুব সম্ভবত শীতকালে আর কমবে না দাম। আবার গরম আসলে হয়তো দাম কমতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মাস শেষে বেচা কিনি নাই। প্রতিমাসের ২০ তারিখের পরেই বেচা কিনি কমে যায়। আবার মাসের শুরুতে বেচা বিক্রি স্বাভাবিক হয়।

মুরগির বাজারে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দুই ধরনের মুরগির দাম গত সাত দিনে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৩৩০ টাকায় নেমেছে। সাত দিন আগে এর দাম ছিল ৩৬০ টাকা।

গড়পাড়া ব্রয়লার হাউসের মুরগি বিক্রেতা মো. আজাদ জানান, বেচাকিনি এহন নাইক্যা। বৃহস্পতিবারের বাজার দশটা বাজে, মাত্র দুইটা মুরগি বেচছি। তাছাড়া এমনিতে বৃহস্পতিবার আসলে দশটা বাজার আগেই ২০টা মুরগি বেচাকিনি করি। মাসের শেষ বেচা বিক্রি কম। প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখের পর থেকেই বেচা বিক্রি কমে যায়। চাকরিজীবীরা বেতন পায় মাসের শুরুতে, এজন্য মাসের শুরুতে বেচা বিক্রি ভালো হয়।

মাছের বাজারে রুই ও পাঙাসের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৪০০ টাকা। পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২০০ টাকা।

তবে বিক্রেতাদের মতে, পাঙাসের দাম সাধারণত ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে থাকে। শীতকালে তা বেড়ে ২১০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা দুলাল রাজবংশী বলেন, মাসের শেষ সময়ে বেচা বিক্রি কম হয়। কাস্টমার কম আসে। মাছের দাম আগের মতোই আছে। মাছের দাম কমলে বাড়লে সর্বোচ্চ ৫০/১০০ টাকার এদিক সেদিক হয়। তাছাড়া ছোট-বড় অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়।

বাজারে অন্যান্য মাছের মধ্যে চিংড়ি প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা, কাকিলা ৬০০ টাকা, বাইম ১ হাজার টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কারফিউ ২৬০ টাকা, বাটা ২০০ টাকা, বোয়াল ৮৫০ টাকা এবং বেলে মাছ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রিগেড মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাঁচ কেজির বেশি ওজনের মাছের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এসব মাছের দাম গত সাত দিনে পরিবর্তন হয়নি। মাছের আকার ও ওজন অনুযায়ী দামের তারতম্য রয়েছে।

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের জন্য। গত সাত দিনে সাদা ডিমের দাম প্রতি হালিতে ৪৮ টাকা থেকে কমে ৪২ টাকা হয়েছে। লাল ডিমের দাম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৪ টাকা হয়েছে। তবে সোনালি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৬০ টাকা এবং কোয়েল পাখির ডিম ৩০টি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দুই ধরনের ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারে আসা বিপ্লব হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে, ডিমের দামও কমেছে। তবে সব পণ্যের দাম কমেনি। মাছ মাংস কিনতে এখনো বেশি টাকা লাগে। মাসের শেষ দিকে সংসারের খরচ চালাতে হিসাব করে বাজার করতে হচ্ছে। আয়-ব্যয়ের সঙ্গে মিল রেখে নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে আমাদের।

বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল হক বলেন, মাসের শেষ দিকে এসে হাতে টাকা না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সীমিত আয়ের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই পরিমাণে কম কিনতে হচ্ছে। 

পৌর আদর্শ বহুমুখী মার্কেট কাঁচা বাজারের সভাপতি মো. রবিউল আওয়াল বলেন, প্রত্যেক মাসের শেষের দিকে বাজারে ক্রেতা কম থাকে। এখন সবজির দাম ও স্বভাবিক আছে। সমস্যা হলো এই বাজারে চাকরিজীবীরা বেশি আসে। তারা তো বেতন পায় মাসের শুরুতে এজন্য শেষের দিকে বেচা বিক্রি কমে যায়।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোছা. রৌশন আরা বেগম জানান, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। যদি কেউ মাছে ফরমালিন  বা জেলি ব্যবহার করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল রাখতে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। কেউ যদি অসাধুভাবে ক্রেতাদের ঠকানোর চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



Source link

মন্তব্য ০

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত জানান

মন্তব্যে কোনো লিংক বা ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া যাবে না। সম্পাদকের অনুমোদনের পর মন্তব্য প্রকাশিত হবে।