নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন, এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের আভাস!

নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন, এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের আভাস!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মিত্র আল্ট্রা-অর্থোডক্স ধর্মীয় দল ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডায়িজম’ (ইউটিজে) সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, দলটি এখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে বিরোধী জোটের প্রধান নেতা গ্যাডি আইজেনকোটের নতুন সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছে। এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ইসরাইলি রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য চরম সংকটের মুখে পড়বে।
নতুন প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, ইউটিজে আইজেনকোটের নতুন মন্ত্রিসভায় সরাসরি যোগ দেবে না। তবে তারা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিল বা ভোটাভুটির সময় ভোটদানে বিরত থেকে আইজেনকোটের সংখ্যালঘু সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। বর্তমানে সংসদে ইউটিজের ৭টি আসন রয়েছে। তারা নেতানিয়াহুর পাশ থেকে সরে দাঁড়ালে নেতানিয়াহু জোটের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়াবে মাত্র ৪৬-এ, যা আইজেনকোটের ৪৮টি আসনের চেয়েও কম। তাছাড়া, সংসদীয় এই সমীকরণে ৮টি আসন থাকা ইসলামপন্থী দল ‘রা’আম’-এর সমর্থন নেওয়ার সুযোগও বিরোধী জোটের সামনে খুলে যাবে।
ধর্মীয় শিক্ষা বা ‘ইয়েশিভা’র শিক্ষার্থীদের জন্য সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান থেকে অব্যাহতির আইন পাস না করায় নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ইউটিজে। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, নেতানিয়াহুর সাথে তাদের রাজনৈতিক জোটের মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে এবং তার কাছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) না থাকায় নতুন কিছু পাওয়ার আশাও তারা দেখছে না। তাছাড়া, সংসদে কোনো জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হলে নিজেদের বিরোধী দলে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতেই তারা কৌশলগতভাবে আইজেনকোটের দিকে ঝুঁকছে।
তবে প্রস্তাবিত এই নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সেনাসদস্য নিয়োগের বিষয়টি। বিরোধী নেতা গ্যাডি আইজেনকোট শুরু থেকেই আল্ট্রা-অর্থোডক্স শিক্ষার্থীদের সামরিক ছাড় দেওয়ার কট্টর বিরোধী। তা সত্ত্বেও, ইউটিজের অনেক নেতাই আশাবাদী যে আলোচনার মাধ্যমে একটি মাঝামাঝি সমাধান তৈরি করা সম্ভব। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামরিক নিয়োগ সংক্রান্ত খসড়া আইনটি পাসের সময় ধর্মীয় এমপিরা লোকদেখানো প্রতিবাদ জানালেও বিরোধী জোটে অবস্থান নিয়ে ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন না, যাতে সরকারের কোনো ক্ষতি না হয়।
ইতোমধ্যেই ইউটিজের শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই। যে রাজনৈতিক নেতাই ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক ছাড় দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন, নিজেদের ধর্মীয় গুরুদের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁকেই তারা সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। যদিও এই প্রস্তাবে বিরোধী নেতা আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, তবে দুই দলের মধ্যে নিচু স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হলে নেতানিয়াহু সরকারের পতন কেবল সময়ের ব্যাপারে পরিণত হবে। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
মন্তব্য ০
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।